শ্রীচৈতন্য দর্শনের পর সুলতানের চাকরি ছেড়েছিলেন রূপ-সনাতন

চৈতন্যদেবের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করে ছয়জন বৈষ্ণব সাধক ও সংস্কৃত পন্ডিত যারা পরিচিত ষড় গোস্বামী নামে৷ তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন৷ এরা হলেন সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী, রঘুনাথ দাস, গোপাল ভট্ট, রঘুনাথ ভট্ট ও জীব গোস্বামী৷ এদের মধ্যে দুই ভাই সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী ছিলেন বাংলার সুলতান হুসেন শাহের রাজ দরবারের দুই মন্ত্রী৷ কিন্তু চৈতন্য দর্শনের পর রাজ দরবারের বিলাস বৈভবও তুচ্ছ মনে হয়েছিল এদের কাছে ফলে মহাপ্রভুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে হয়ে যান পরম বৈষ্ণব৷

সনাতন গোস্বামী নামে পরিচিত হলেও তাঁর গার্হস্থ্য জীবনের নাম ছিল অমর। ন্যায়শাস্ত্রে সুপন্ডিত সনাতন সুলতান হুসেন শাহের রাজদরবারে রাজস্বমন্ত্রী (সাকর মল্লিক) হিসেবে কাজ করতেন৷ ফলে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষাতেও সুপন্ডিত হয়ে উঠেছিলেন বলে মনে করা হয়।রাজকার্যে নিযুক্ত থাকলেও তাঁর অন্তরে ছিল বৈরাগ্যভাব। চৈতন্যদেবের বৃন্দাবন গমনকালে (সম্ভবত ১৫১৫ খ্রি)

রামকেলিতে তাঁর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তিনি সুলতানে অধীনে চাকরি ত্যাগ করেন এবং অল্পকালের মধ্যে শ্রীচৈতন্যের অনুগামী হন। সনাতনের অনুজ রূপ গোস্বামী পিতৃদত্ত নাম ছিল সন্তোষ৷ তিনিও সুলতান হুসেন শাহের দরবারে চাকরি করতেন। তিনি ছিলেন সুলতানের ‘দবির খাস’ (প্রধান সচিব)। চৈতন্য দর্শন তাঁর জীবনে পরিবর্তন আনে৷ তিনি তাঁর অগ্রজের মতোই সুলতানের দরবার ছেড়ে আসেন শুধুমাত্র চৈতন্য লাভের জন্য৷

- Advertisement -

বর্তমান মালদহ মহদীপুর বাস সড়কের পথে পিয়াসবাড়ি থেকে ডানদিকে ঘুরে গ্রাম্য পথ ধরে কিছুটা এগোলে মিলবে রামকেলি৷ ১৫১৫ সালের জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে বৃন্দাবনের পথে চৈতন্যদেব গৌড়ে আসেন৷ সেখানেই অবস্থান করেন কয়েকদিন৷ পাথরের বুকে তাঁর পদচিহ্নটি সযত্নে রাখা আছে সেখানে তমালতটের ছোট্ট মন্দিরে৷ সেই সময়ে এসে শ্রীচৈতন্যদেব যে দুটি তমাল এবং দুটি কদম্ব গাছের তলায় অবস্থান করেছিলেন তা আজও রয়ে গিয়েছে৷

তখন চৈতন্যদেবের ওই আগমণের ফলে সেই সময় মহাপ্রভুর সান্নিধ্য লাভ করেন তৎকালীন বাংলার সুলতান হুসেন শাহের দুই মন্ত্রী সাকর মল্লিক এবং দবীর খান যারা হলেন রূপ ও সনাতন গোস্বামী৷ তারা দুজনেই ওই তমাল তটে শ্রীচৈতন্যদেবের কাছে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেন৷ সেখানে মদমোহন জিউয়ের মন্দির গড়েন রূপ সনাতন৷ তবে পুরনো মন্দিরটি ধ্বংস হতে ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে বর্তমান মন্দিরটি গড়ে তোলা হয়৷ এই মন্দিরের ডাইনে ও বায়ে মোট আটটি কুণ্ড রয়েছে , যেগুলি রূপ সনাতন খনন করেছিলেন একেবারে বৃন্দাবনী ঢঙে ৷ প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে শ্রীচৈতন্যদেবকে মনে রেখে প্রতি বছর সেখানে মেলা বসে যা চলে সাতদিন ধরে ৷ রামেকেলিকে গুপ্ত বৃন্দাবনও বলা হয়ে থাকে৷

Advertisement ---
---
-----