‘মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজেই ভেদ করতে পারে রুশ পরমাণু অস্ত্র’

মস্কো:  দেশের সেনাবাহিনীর হাতে থাকা শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকাকে নাম না করে বলেছেন, রাশিয়ার হাতে থাকা এই অস্ত্র বিশ্বের যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভেদ করতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০০২ সালের এন্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি থেকে আমেরিকা সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাশিয়াকে এখন পরমাণু অস্ত্রের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, “যখন কোনও এক পক্ষ চুক্তি থেকে একতরফা নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং পরমাণু বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলে তখন অন্য পক্ষকেও একই রকমের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয় অথবা এমন উপায় বের করতে হয় যাতে এন্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভেদ করা সম্ভব হয় এবং হামলার ক্ষমতাও বাড়াতে হয়।”

মার্কিন পক্ষ যে পরমাণু বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলছে তার কতটা প্রয়োজন আছে তা নিয়ে পুতিন সন্দেহ প্রকাশ করেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আমরা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করাসহ  ভূমি-ভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৌশলগত বোমারু বিমান ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র -এই তিন ধরনের পরমাণু ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলো আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। এটা বাস্তব যে, আমরা এগুলি করছি এবং আমরা সফলও হচ্ছি।”

রুশ প্রেসিডেন্ট সুস্পষ্ট করে বলেন, মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যেকার কথিত পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা তারাই শুরু করেছে। মার্কিন তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পুতিন বলেন, মস্কো এখনও নতুন স্টার্ট চুক্তি ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, আমেরিকা তার পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এবং ইউরোপে পুরনো অস্ত্রের জায়গায় নতুন অস্ত্র মোতায়েন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। পুতিন বলেন, মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা থাকা উচিত। এর পাশাপাশি তিনি সিরিয়ার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বিষয়ে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় একটি সম্মেলন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছে মস্কো এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বিষয়টিতে এরইমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন বলে পুতিন উল্লেখ করেন।

----
-----