সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: আশির দশকের মাঝামাঝি ধীরুভাই অম্বানি ও তার রিলায়েন্সের কীর্তিকলাপ ফাঁস করতে গিয়ে উল্টে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কাগজের কলমনিস্ট স্বামীনাথন গুরুমূর্তি৷ সেই সময় রাজীব গান্ধী- অমিতাভ বচ্চন- রিলায়েন্সের সঙ্গে ভি পি সিং- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস- বম্বে ডাইংয়ের এক লড়াই লেগেছিল ৷ আর তারই জেরে যেমন মুশকিলে পড়েছিলেন ধীরুভাই – অমিতাভেরা তেমনই আবার দিন দশেকের জন্য হাজতবাস করতে হয়েছিল পেশাগত দিক থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এই গুরুমূর্তিকে৷

সম্প্রতি এই গুরুমূর্তিকেই নিয়ে আসা হয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকের বোর্ডে ৷ তাঁকে ৪ বছরের মেয়াদে দেশের শীর্ষ ব্যাংকের আংশিক সময়ের নন-অফিশিয়াল ডিরেক্টর করা হয়েছে৷ ইনি আবার সঙ্ঘের শাখা সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক। যার জন্য প্রশ্ন উঠেছে দেশের শীর্ষ ব্যাংকে গেরুয়ার প্রবেশ হচ্ছে নাকি ? কালো টাকা উদ্ধারে ক্ষেত্রে মোদী সরকারের নোটবন্দি সিদ্ধান্তকে সমর্থনই করেছিলেন এই ব্যক্তি ৷ যদিও বাতিল হওয়া ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোটের ৯৯ শতাংশ ফিরে আসায় কালো টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়৷ তবে আজ থেকে তিন দশক আগে তাঁর লড়াইটা ছিল ধীরুভাইয়ের অম্বানি বাণিজ্যিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কারণ তা দেশের পক্ষে ক্ষতিকারক বলেই মনে করতেন তিনি ৷

বাণিজ্যের জগতে ধীরুভাইয়ের প্রবেশের আগে ভারতের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা একদিকে ব্যবসায়ীদের সুবিধা (লাইসেন্স পারমিট ইত্যাদি) পাইয়ে দিতেন অন্যদিকে বিনিময়ে ব্যবসায়ীরা ভোটের সময় মোটা চাঁদা দিতেন অথবা প্রচারের খরচ বহন করতেন৷ কিন্তু সেই পরিবেশটা বদলে গেল রিলায়েন্স গোষ্ঠীর উত্থান ও ভারতের অর্থনীতি আর বেশিও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠায়৷ তখন কোনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করাটা ক্ষমতায় থাকা নেতাদের হাতে শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ থাকল না৷ যা ঘটেছিল অম্বানিদের ক্ষেত্রে৷

এক সময় মজা করে অনেকের মুখে মুখে ঘুরত, এদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী পার্টি কোনটি আর উত্তর ছিল রিলায়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া৷ আর দেশের রাজনৈতিক নেতাদের দুভাগে ভাগ করে দেওয়া হত- বড় নেতারা হল ‘আর পজেটিভ গ্রুপ’ এবং ছোট নেতারা ‘আর নেগেটিভ গ্রুপ’, কারণ ধীরুভাই একপ্রকার দলমত নির্বিশেষে এই রাজনৈতিক নেতাদের দুনিয়াটা তাঁর অনুকূলে নিয়ে এসেছিলেন৷ খুব সামান্যই রাজনৈতিক নেতা তাঁর বিরোধী ছিলেন যাদের তিনি কব্জা করতে পারেননি৷ ঠিক তেমনই সংবাদমাধ্যমের সামান্য অংশ বাদ দিলে বাকিদের এমন ভাবে খুশি করে রেখেছিলেন যে ওনার বিরুদ্ধে তেমন ভাবে কলম চলত না৷

তিন দশক আগে একটি ছোট চিঠির ফটোকপিকে কেন্দ্র করে অম্বানির সঙ্গে এস গুরুমূর্তির বিবাদ চরমে পৌঁছে ছিল৷ যদিও চিঠিটি জালিয়াতি করেই তৈরি বলে সেই সময় সমালোচনার ঝড়ও ওঠে ৷ ফেয়ারফ্যাক্স গ্রুপ নামে একটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহ-সভাপতি গর্ডন ম্যাকায় গুরুমূর্তিকে চিঠি লিখেছিলেন, বচ্চনের সুইস সম্পত্তির তদন্তের প্রসঙ্গে। রটেছিল এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান রামনাথ গোয়েঙ্কা, বম্বে ডাইং-এর চেয়ারম্যান নুসলি ওয়াদিয়া ফেয়ারফ্যাক্সকে পাঁচ লক্ষ ডলার দিয়েছিলেন এবং ডঃ হ্যারিস নামে ফেয়ার ফ্যাক্সের এক প্রতিনিধি ভারতে এসেছিলেন৷

অবশ্য কেমন করে সেই চিঠি আবার সিবিআইয়ের কাছে গিয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ৷ যদিও তা প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেই পৌঁছে গিয়েছিল বলে এক অফিসার জানিয়েছিলেন৷ তবে কেমন করে রাজীব গান্ধীর কাছে এসেছিল তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে৷ বিভিন্নমহলের ধারণা বন্ধু অমিতাভ বচ্চনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসেছিল কারণ ফেয়ারফ্যাক্স বিগ-বির সুইস সম্পত্তি জন্যেই তদন্ত করেছিল বলে অভিযোগ৷ আর এটাও ঘটনা ১৯৮৪ সালে লোকসভা ভোটে জিতে অমিতাভ বচ্চন সাংসদ হলেও বোফর্স ফেয়ারফ্যাক্স ইত্যাদি বির্তকে জড়িয়ে তাঁকে কয়েক বছরের মধ্যেই রাজনীতির ময়দান ছাড়তে হয়েছিল৷

ওইসময় সেই চিঠি আসল না জাল সেই বিতর্ক চললেও দেখা গিয়েছে তাকে ভিত্তি করে তোলপাড় হয়েছিল রাজনৈতিক তথা শিল্পমহল৷ বিশেষত তখন বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং ভারতের ব্যবসায়ী জগতের আবর্জনা পরিষ্কার করতে নেমে পড়েছিলেন৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ভিপি সিং-এর অধীনে থাকা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (যার নেতৃত্বে ছিলেন ভুরেলাল) রিলায়েন্সের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রয়োজন মনে করেছিলেন ৷

সমমনোভাবাপন্ন ভুরেলাল এবং গুরুমূর্তির মধ্যে যোগাযোগ ছিল৷ সিবিআইয়ে ধারণা হয়েছিল তাঁরা দুজনে একসঙ্গে লন্ডন গিয়েছিলেন৷ যদিও ভুরেলাল দাবি করেছিলেন তিনি একাই গিয়েছিলেন রিলায়েন্স কর্তা ধীরুভাইয়ের মালিকানাধীন কিছু ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিগুলির ব্যাপারে প্রমাণ জোগাড় করতে ৷ কিন্তু সেই সব কোম্পানিগুলি তুলে দিয়ে নতুন নামে এসেছিল৷ আর সেই কথাই একেবারে প্রথম পাতায় খবর করেছিলেন গুরুমূর্তি ৷ এরপরেও আরও একবার ভুরেলাল বিদেশে গেলেও খালি হাতেই ফিরেছিলেন৷

তবে কারও কারও মতে ভুরেলাল ঠিক জানতেন না লুকোন এই আর্থিক লেনেদেনের বিষয়ে ঠিক কি কি তদন্ত করা দরকার৷ তবে তিনি সহজে ছাড়ার পাত্র ছিলেন না ফলে তিনি এবং রাজস্ব দফতর ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভিপি সিংকে পরামর্শ দেন বিদেশি তদন্তকারী সংস্থাকে ভার দেওয়া হোক রিলায়েন্সের পাশাপাশি টাটা, গোয়েঙ্কা এবং ছাবেরিয়া গোষ্ঠীর বিভিন্ন লেনদেনের দিকটা খতিয়ে দেখতে৷ কিন্তু খরচের কথা চিন্তা করে বিশ্বনাথ প্রতাপ তখন সংকোচ বোধ করেন এবং ফের ভুরেলালকেই বিষয়টা দেখতে বলেন৷

এদিকে গুরুমূর্তিও ভাবলেন একটি প্রাইভেট ডিটেকটিভ এজেন্সিকে কাজে লাগানোর কথা৷ অক্টোবরে যখন গুরুমূর্তি নিউইয়র্কে যান ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অর্ডার করা কিছু মেশিনের ব্যাপারে কথা বলতে তখন পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন৷ বেশ কয়েকটি নাম তখন তাঁর কাছে এসে পৌঁছয় যাদের মধ্যে অন্যতম এই ফেয়ারফ্যাক্স গোয়েন্দা সংস্থাটি৷

যদিও গুরুমূর্তির এই বিষয়ে বক্তব্যে অসঙ্গতি ছিল৷ কখনও তিনি জানিয়েছিলেন ওই সব গোয়েন্দা সংস্থাকে বরাত দেওয়া তাঁর কাছে রীতিমতো ব্যয়বহুল ছিল এবং তিনি আদৌ ফেয়ার ফ্যাক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি৷ আবার কখনও বলেছিলেন এনফোর্সমেন্টের হয়ে তিনি ফেয়ারফ্যাক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন৷ একই রকম ভাবে কথায় বেশ কিছু অসংগতি থাকলেও ম্যাকায় জানিয়েছিলেন, যা রটছে তা কিছুটা সত্যি হলেও শেষ পর্যন্ত ওই পথে যাওয়া হয়নি৷

দিল্লিতে ফিরে ভুরেলালকে গুরুমূর্তি পরামর্শ দিয়েছিলেন ফেয়ারফ্যাক্সকে সরকারি কাজে লাগাতে৷ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর সেটাই করেন ৷ ওয়াশিংটনে তিনি নিজে খোঁজ খবর নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেন৷ হয়তো ঠিকই বেছে ছিলেন৷ নতুন সংস্থা হলেও বিশেষত সরকারি তদন্তের কাজের জন্য ফেয়ারফ্যাক্স তখন সুনাম অর্জন করেছিল ৷ কিন্তু ভুরেলাল ফেয়ারফ্যাক্সকে কাজে লাগানোর আগে ডাঃ হ্যারিস ভারতে এসেছিলেন বলে ম্যাকায়ের চিঠিতে উল্লেখ ছিল৷ এই হ্যারিস হলেন ফেয়ার ফ্যাক্সের প্রেসিডেন্ট মাইকেল হার্সম্যান৷

হ্যারিস নভেম্বরের ১৪-১৭ দিল্লির ওবেয়র হোটেলে ছিলেন ৷ তবে তিনি পরবর্তীকালে সাক্ষাৎকারে সে কথা অস্বীকার করেন৷ তাছাড়া গুরুমূর্তিকে লেখা ম্যাকায়ের চিঠি থেকে জানা যায় নুসলি ওয়াদিয়ার এই বিষযের সঙ্গে জড়িত কারণ হ্যারিসের হোটেলের ঘর বম্বে ডাইং বুক করেছিল৷ যদিও তা পুরোপুরি অস্বীকার করেন নুসলি ওয়াদিয়া৷ তাছাড়া ফেয়ারফ্যাক্স জানিয়েছিল তাদের ১৯৮৬ সালের শরতে ভাড়া করা হয় অথচ ভুরেলাল তাদের ভাড়া করেছিল ডিসেম্বরের শেষে, বলা চলে শীতকালে৷

ওয়াশিংটন থেকে ফিরে ভুরেলাল নববর্ষের সময় ফেয়ারফ্যাক্সকে লিখেছিলেন, রিলায়েন্সের ১৫টি অ্যাকাউন্টে তদন্ত করতে৷ আবার ভুরেলাল তাঁর বিষয়সূচি অনুসারে অমিতাভ এবং তার ভাই অজিতাভ বচ্চনের অগস্ট মাসে ‘সুইস রেসিডেন্স’ থাকার বিষযে সন্দেহ প্রকাশ করেন৷ কিন্তু হার্সম্যান অমিতাভ বচ্চনের বিষয়টা অস্বীকার করেছিলেন৷ জানুয়ারির মাঝামাঝি অমিতাভের বিষয়ে দিল্লিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল৷ আর এর সপ্তাহখানেক পরেই ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ভিপি সিংকে প্রতিরক্ষামন্ত্রকে সরিয়ে দেন৷ তবে এই বদলি ঘটে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে আলোচনার করার এক সপ্তাহের মধ্যেই৷ যেখানে বিশ্বনাথ প্রতাপের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি ফেয়ারফ্যাক্স অনুমোদন করেন কিনা? তিনি জবাবে জানিয়েছিলেন তিনি তা করেন তবে লিখিত ভাবে কিছু চাওয়া হয়নি৷

এরই সপ্তাহ দুয়েক পরে অর্থমন্ত্রকের কাছ থেকে লিখিত ভাবে তা চাওয়া হয়েছিল৷ ইতিমধ্যে অর্থসচিব এস ভেঙ্কাইটারামন সমন জারি করেন ভুরেলালকে এবং তাঁর বয়ান নেওয়া হয় ফেয়ারফ্যাক্সের সাহায্য চাওয়ার বিষয়ে৷ তবে অবাক করে ভুরেলাল এই বিষয়ে জবাব দিতে রাজি হননি কারণ তিনি রাজস্ব সচিবের কাছে জবাব দিতে বাধ্য বলে৷ তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সচিব জি কে অরোরাও তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন৷

এরপরে কয়েক সপ্তাহ ও মাস ধরে একটা উত্তেজনা চলতে থাকে ৷ ১১মার্চ সিবিআইয়ের হাতে এসে পৌঁছয় ম্যাকায়ের চিঠি ৷ নড়েচড়ে ওঠে সিবিআই সহ সরকারের বেশ কিছু দফতর৷ ভুরেলালকে বদলি করা হয়, রাজস্ব সচিব বিনোদ পান্ডের হাত থেকে সরিয়ে আনা হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং তা অর্থসচিবের অধীনে আনা হয়৷ পান্ডেকে পড়তে হয় সিবিআই জেরার মুখে৷ পাশাপাশি একেবারে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ১২মার্চ চিঠিপত্র তৈরি করে তা বিমানে মাদ্রাজ ও বম্বেতে পাঠান হয় যথাক্রমে গুরুমূর্তি এবং তাঁর ব্যবসার অংশীদার জানকিরামনকে গ্রেফতারের জন্য৷

এই ঘটনার পরেই তল্লাশি চলতে থাকে ফলে ঠিক পরের দিন (১৩মার্চ) ভোরবেলায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একেবারে চরম উত্তেজনায় ভরপুর এক চিঠি ছেপে দেয় যাতে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার বিবাদ উঠে আসে৷ কারণ সংসদে তিনি দাবি করেছিলেন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাষ্ট্রপতিকে জানিয়ে করা হয় বলে, কিন্তু সেটা একেবারেই মিথ্যা কথা ৷ ওই দিন সন্ধেবেলায় তল্লাশির জন্য অফিসারেরা নয়াদিল্লির এক্সপ্রেসের গেস্ট হাউসে পৌঁছে যান৷ সেখানে তখন খোদ রামনাথ গোয়েঙ্কা বসেছিলেন৷ তল্লাশি চলাকালীন ধীরুভাই অম্বানি তাঁকে ফোন করে সাহায্যের কথা বললে তিনি রেগে ফোনটা নামিয়ে রাখেন৷ নুসলি ওয়াদিয়াও তখন ওই দিল্লির গেস্ট হাউসে এবং তাঁকে সেখান থেকে যেতে দেওয়ার আগে তার ব্রিফকেসটি খুলে সরজমিনে দেখে নেওয়া হয় তাতে কি আছে৷ গেস্ট হাউসে পাওয়া কাগজপত্রের মধ্যে মিলে ছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের লেটারহেড দেওয়া সাদা কাগজ৷

রাষ্ট্রপতির লেখা ওই চিঠি ছাপানোই যে ওই তল্লাশির কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ তবে ওই তল্লাশির পিছনে আসল প্ররোচনার বিষয়টি আলাদা৷ সিবিআই মামলা করেছিল গোপন সরকারি নথি এভাবে প্রকাশ করার জন্য যা গুরুমূর্তি তুলে ধরেছিলেন রিলায়েন্সের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনগুলিতে৷

কিন্তু প্রাথমিক উদ্দেশ্যটা নিয়েই প্রশ্ন থেকে গিয়েছে- ফেয়ারফ্যাক্সের মাধ্যমে কে তদন্তে নেমেছে কার বিরুদ্ধে ? এর উত্তর যাই হোক না কেন সরকারি নথি প্রকাশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুরুমূর্তি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলেন ৷ গোপন নথি বিদেশি সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়৷

কিন্তু পরে গোটা বিষয়ের ফোকাস সরে যায় ওই ম্যাকায়ের লেখা চিঠিটি আদৌ আসল কিনা অথবা চিঠির বিষয়বস্তু কতটা সঠিক তা নিয়ে ৷ কেননা সেখানে এমন একটা ঠিকানা বলা হয় যেখানে নুসলির বাবা নেভিল ওয়াদিয়া থাকেন এবং গোয়েঙ্কা গিয়েছিলেন দেখা করতে৷ যদিও রামনাথ গোয়েঙ্কা জেনেভায় গেলেও ওই জায়গাটিতে পৌছতে অন্তত গাড়িতে করে সাতঘন্টা সময় লাগত অথচ তিনি সেখানে মাত্র তিন ঘন্টা ছিলেন৷

এই সওয়াল জবাবের ফলে অবশেষে ১০দিন জেলে কাটিয়ে গুরুমূর্তি জামিন পান৷ তখন অনেকেই তাঁর কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন এমন উদ্যোগ কি অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে করার জন্য? তাঁর জবাব ছিল তিনি একমাত্র রিলায়েন্সের বিষয়েই আগ্রহী৷

তথ্য ঋণ:

Arrest of Indian Express columnist S. Gurumurthy provokes nation-wide controversy :T.N Ninan (India Today April 15, 1987)

The two faces of Dhirubhai Ambani:PARANJOY GUHA THAKURTA (India Seminar)

Business Maharajas : Gita piramal

----
--