ফাইল ছবি

তিরুঅনন্তপুরম: প্রশাসনের আশ্বাস ও নিরাপত্তার সবরকমের ব্যবস্থা থাকলেও বুধবার শবরীমালা মন্দিরের ধারেকাছেও ঘেষতে পারেননি মহিলারা৷ মন্দিরের ঐতিহ্য রক্ষায় মরিয়া একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অমান্য করে মন্দির ও মন্দির সংলগ্ন এলাকায় কার্যত দাপিয়ে বেরায়৷ তাদের কাছে একটা সময় এক হাজার পুলিশকেও অসহায় মনে হয়৷ চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে৷ তাই বুধবারের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বৃহস্পতিবার কেরলের একাংশে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা৷

এদিকে শবরীমালা মন্দিরের দ্বিতীয় দিন সববয়সী মহিলাদের প্রবেশ রুখতে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক দেয় একাধিক সংগঠন৷ বনধকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপিও৷ সেই মতো সকাল থেকেই বন্ধ দোকানপাঠ৷ শুনসান রাস্তাঘাট৷ হাতে গোনা ছাড়া কোনও গাড়ি চলছে না৷

Advertisement

এদিকে বিক্ষোভকারীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন সুহাসিনী রাজ৷ পেশায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক তাঁর এক সহকর্মীকে নিয়ে পাড়ি দেন সবরীমালা৷ পুলিশের ঘেরাটপে তারা মন্দিরের কাছাকাছি যেতে পারলেও পরে বিক্ষোভকারীদের চাপে মাঝরাস্তা থেকে ফিরে আসতে হয়৷ পুলিশ জানিয়েছে, পেশাগত কারণে সেখানে গিয়েছিলেন সুহাসিনী৷ মারাকুট্টামের কাছে যেতেই বিশাল সংখ্যক ভক্তদের দেখে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা৷ তাই বাধ্য হয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সে৷

বুধবারও মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া প্রথম দুই মহিলার পথ আটকায় বিক্ষোভকারীরা৷ ওই মহিলাদের মধ্যে একজন হলেন লিবি সি এস৷ পেশায় একজন সাংবাদিক৷ কেরলের বাসিন্দা লিবি শবরীমালা যাওয়ার আগে মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন৷ সেই পোস্ট দেখেই সতর্ক হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা৷ বুধবার শবরীমালা মন্দির থেকে ৪.৬ কিমি দুরে তাঁর পথ আটকানো হয়৷ পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়৷

লিবির মতোই অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শবরীমালা যান মাধবী৷ পরিবারের সঙ্গে আয়াপ্পা দর্শনে যাচ্ছিলেন তিনি৷ কিন্তু মাঝপথ থেকেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ পরে মাধবী জানান, প্রথমে বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা তাদের নিরাপত্তা দিয়ে মন্দিরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল৷ কিন্তু শবরীমালার কাছে আসতেই তারা সরে পড়েন৷ এরপর জবরদস্তি মাধবী ও তার পরিবারকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়৷

----
--