স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সব্যসাচীকে উদ্দেশ্য করে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, দলের বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে না৷ সে কথা বলার পাঁচ দিনের মাথায় ফের বিস্ফোরক বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত৷

বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে আসেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত৷ পুরানো একটি রাজনৈতিক মামলার এদিন তার হাজিরা ছিল৷ বিজেপি নেতা মুকুল রায় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘যদি আসতে চায় আসতে পারে, যে কেউ লুচি, আলুরদম খেতে চাইলে ,বাড়িতে আসলেই তাঁকে খাওয়াবো৷ তবে বানানোর জন্য একটু সময় দিতে হবে৷’’ বাড়িতে কেই এলে খাওয়ানোটা সৌজন্য বলে জানান তিনি৷ বিধাননগরের মেয়র বলেন, ‘‘বাড়িতে কেউ আসলে তাকে খাওয়ানোটা আমার ভদ্রতা৷ আগেও ছিল, এখনও রয়েছে৷’’

সম্প্রতি রায়চকে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ সেই সময় বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ হয় বলে অভিযোগ করেন বৈশাখী৷ সেই প্রসঙ্গে সব্যসাচী দত্ত জানান, ‘‘এই ধরণের কাজ তিনি সমর্থন করেন না। যারা করেছে তাদেরকে আমি সমাজবিরোধীই বলব৷ তবে কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি ঢুকতেও চাই না৷’’

আরও পড়ুন: প্রার্থী নিয়ে কলকাতায় বিজেপির বৈঠক, যোগ দিতে পারেন তৃণমূলের কাউন্সিলার

দিন কয়েক আগেই সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে গিয়ে লুচি, আলুরদম খেয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল৷ সে খবরে রাজ্য রাজনীতি জল্পনা হচ্ছিল বিধাননগরের মেয়র কী জোড়া-ফুল ছেড়ে পদ্মফুলে নাম লেখাচ্ছেন৷ এরপরই তৃণমূলে দফায় দফায় জরুরি বৈঠক হয়৷ এই বিষয় শেষ বৈঠকটি হয় গত রবিবার৷

আরও পড়ুন: ‘শ্রীভূমি নিষিদ্ধপল্লী নাকি’: সব্যসাচী

শ্রীভূমি স্পোটিং ক্লাবে সেই জরুরি বৈঠকে হাজির ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম,দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু৷ ডাকা হয়েছিল বিধাননগর পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলরদের৷ বৈঠক শেষে সব্যসাচী দত্ত সেদিন বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূলে ছিলাম, আছি, থাকবো৷’’

তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য ফিরহাদ হাকিমের কথায়, “বিজেপি আমাদের ঘোষিত শত্রু। তাই ওই দলের কারও সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে না। তৃণমূলের মধ্যেই বন্ধুত্ব রাখতে হবে৷” ঘাড় নেড়ে দলের প্রতি আনুগত্যের কথা জানান সব্যসাচী দত্ত৷

কিন্তু ভাটপাড়ার বিধায়কের তৃণমূলে যোগদানের দিনই সব্যসাচী দত্ত যা বললেন তাতে ফের জল্পনা তুঙ্গে৷ মুখে না বললেও তলে তলে কি ‘লুচি-আলুর দমে’ই বাজি মাতের চেষ্টায় গেরুয়া নেতৃত্ব৷