মুম্বই: স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নারদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করলেন লিটল মাস্টার৷‘স্যান্ডপেপার গেট’ কাণ্ডে নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম সাংবাদিকদের সামনে মুখ খুলেন নির্বাসিত অজি অধিনায়ক৷সিডনি বিমান বন্দরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্মিথ৷ ভিডিওটি সামনে আসার পরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টুইট করে অভিযুক্ত অজি খেলোয়াড় এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন সচিন তেন্ডুলকর৷

আগে সমালোচনা করলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেয় স্মিথদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ব্যক্ত করে টুইট করেন মাস্টার ব্লাস্টার৷ টুইটে তিনি লেখেন, ‘ওরা পস্তাচ্ছে এবং কষ্ট পাচ্ছে৷ সারাজীবন ওদেরকে এই ঘটনাটা বয়ে বেড়াতে হবে৷ ওদের পরিবারের জন্য সমবেদনা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারকেও অনেক কিছু সহ্য করতে হবে৷ এবার আমাদের সমালোচনা ছেড়ে পিছিয়ে আসার সময় হয়েছে৷ ওদের সময় দেওয়া হোক৷’

অজি-প্রোটিয়া চলতি সিরিজের তৃতীয় টেস্টে বল বিকৃতির অভিযোগে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক স্মিথ এবং ওয়ার্নারকে একবছরের জন্য সবধরনের ক্রিকেট থেকে নির্বাসনে পাঠায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া৷ টিভি ক্যামেরাতে ধরা পড়া আর এক অভিযুক্ত ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নির্বাসন দিয়েছে অজি ক্রিকেট বোর্ড৷আগেই অজি-প্রোটিয়া চতুর্থ টেস্ট থেকে তিনজনকে বরখাস্ত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া৷ঘটনার জেরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচের পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন অজি কোচ লেম্যান৷বৃহস্পতিবারই সাংবাদিক বৈঠকে লেম্যান জানিয়ে দেন, জো’বার্গ টেস্টই অজি কোচ হিসেবে তাঁর শেষ ম্যাচ৷

বিশ্বকে অতিমানবিক ক্রিকেট উপহার দেওয়া ছাড়াও সারাজীবন বাইশ গজের যে কোনও বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন সচিন৷একজন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান হওয়ার সঙ্গেই ক্রিকেটেবিশ্বে মাস্টার ব্লাস্টার পরিচিত একজন সৎ ক্রিকেটার হিসেবেও৷ স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা স্পর্শ করেছে ক্রিকেট ঈশ্বরকেও৷বুধবারই বিষয়টি কড়া সমালোচনা করে টুইট করেছিলেন লিটল মাস্টার৷ টুইটে লিখেছিলেন, ‘ ক্রিকেট হল জেন্টলম্যান গেম৷আমি বিশ্বাস করি এটা সৎভাবেই খেলা উচিৎ৷যেটা ঘটেছে দূর্ভাগ্যজনক! ঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে৷ জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কিভাবে জিতছ সেটা আরও গুরুত্বপূর্ণ৷’

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেই সিডনি বিমানবন্দরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সদ্য প্রাক্তন অজি অধিনায়ক৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ‘স্যান্ডপেপার গেট’ কাণ্ডের নায়ক৷ আবার দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার আশা নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার নেতা হিসেব সমস্ত দায় আমি নিজের কাঁধে নিচ্ছি৷ অন্য কারোর উপর দোষ চাপাতে চাই না৷ আমি বড় ভুল করেছি৷ এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল৷এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী৷ আশা করি আমাকে একদিন ক্ষমা করে দেওয়া হবে৷তবে এর জন্য সারা জীবন আমার অনুতাপ হবে৷ যদিও ঘটনার ভালো দিক হল, আশা করি এখান থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবে৷ দেশকে নেতৃত্ব দেওয়াটা গর্বের৷’

----
--