পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের শিরোনামে সাগর ঘোষ হত্যা মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ফের শিরোনামে সাগর ঘোষ হত্যা মামলা। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বীরভূমের এই ঘটনা ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।

সাগর ঘোষ হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় এপ্রিল মাসের ২৬ তারিখ শোনাতে চলেছে সিউড়ি আদালত। ওই মামলায় মঙ্গলবার দু’পক্ষের সাওয়াল জবাব শেষ হয়েছে। তবে বিতর্কিত এই মামলায় বিচারের রায় রায় কি হবে সে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সিউড়ি আদালত চত্বরে।

২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে পাড়ুই থানার বাঁধ নবগ্রামে নিজের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন সাগর ঘোষ। বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে গেলে দিন দুই পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপান উতোর শুরু হয়। তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে সিআইডি।

- Advertisement -

সব তদন্তে এমনকি প্রত্যাক্ষদর্শী হিসাবে তার স্ত্রী সরস্বতী ঘোষ ও পুত্রবধু শিবানী প্রত্যেকেই ঘটনার রাতে পরপর গুলি করার কথা জানান। এমনকি রান্না ঘরের দিক থেকে সাগরবাবুর হামলাকারীরা যখন গুলি করছিলেন তখন তিনি হাত দিয়ে আটকে আর গুলি না করার অনুরোধ করেন। হাতে সেই গুলির চিহ্ন ছিল।

এর আগে যখন অনান্য চিকিৎসকেরা সাক্ষ্য দিয়েছেন তখন হাতে সেই গুলির চিহ্নের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু চিকিৎসক দেবাশিস সরকার হাতে কোনও চিহ্ন ছিল বলে মনে করতে পারেননি। তিনিই জানিয়ে দিলেন, শরীরে কোনও গুলির চিহ্ন ছিল না। এমনকি গুলির জেরে ভিতরে পুড়তে পুড়তে বড় চিহ্ন করে যদি বাইরে বেড়িয়ে যায় সেই বেড়িয়ে যাওয়ার পথও শরীরে তিনি দেখেননি। তবে খুব কাছ থেকে সাগরবাবুকে আঘাত করা হয়েছিল। তার জেরে তিনি মাটিতে পরে যান। ক্ষতচিহ্ন তার হাতে ছিল।

ইতিমধ্যে তিন জন জেলবন্দি ও ছ’জন জামিনে মুক্ত অবস্থায় সাক্ষ্য পর্ব শেষ হয়েছে। সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষ বলেন, “বাবা নিজে চিকিৎসককে মৃত্যুকালীন বয়ানে তাঁকে গুলি করার কথা বলেছেন। গুলির খোল পাওয়া গিয়েছে বাড়ির দাওয়া থেকে। বিশেষ তদন্তে উঠে এসেছে গুলির কথা।”

এই পরিস্থিতিতে বিচারকের রায় নিয়ে চিন্তিত সব পক্ষ। সরকারি আইনজীবী রণজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সাওয়াল জবাব শেষ হল যেখানে রায় নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ আমরা। কারন গুলিতেই সাগর ঘোষের যদি মৃত্যু হয়। চিকিতসক থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে ধন্ধ কেন।” তাই আগামী এক মাস পরেই বিতর্কিত মামলার রায় শোনাবে আদালত। বিচারালয়ের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে সব মহল।

Advertisement
----
-----