মেলায় বিক্রি কম, চিন্তায় বাঁশ শিল্পীরা

স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের বিক্রি কমেছে। ফলে চিন্তায় পড়েছেন শিল্পীরা। মহিষাদলের ২৪১ বছরের প্রাচীন রথের অনুষ্ঠান শেষ হলেও পূর্নিমা রথের জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রতিবছর পূর্নিমা রথে মহিষাদল রাজ কলেজ প্রাঙ্গনে দুই মেদিনীপুরের শিল্পীরা বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে পসরা সাজায়।

গত কয়েক বছর ধরে মেদিনীপুরের সবং, পিংলা, ময়না-সহ দুই মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা তাঁদের তৈরি ঝড়া, ঠাকা, কুলা-সহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রির জন্য আসেন। গত কয়েক বছর ভালো ব্যবসা হলেও বর্তমান সময়ে বিক্রি একেবারেই হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন শিল্পীরা। তবে পূর্ব পুরুষের পেশাকে ধরে রাখতে তাঁরা এই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান শিল্পিরা।

- Advertisement -

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে আগত শিল্পী বলাই সামাট জানান, মহিষাদলের পূর্ণিমা রথের দিন ভালো বিক্রির আশায় বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস নিয়ে এসেছি। বিগত পাঁচ সাত বছর ধরে এখানে বাঁশের তৈরি জিনিস বিক্রি করে লাভ পেয়েছি। তবে বর্তমান সময়ে বাঁশের দাম বৃদ্ধির কারণে জিনিসের দাম বাড়াতে হয়েছে ফলে ক্রেতারা অনেকেই না কিনে ফিরে যাচ্ছে। তার উপর বাজারে কমদামে প্লাস্টিকের জিনিস চলে আসায় বাঁশের তৈরি জিনিসের কদর কমেছে। বিক্রি না হওয়ায় সমস্যায় পড়েছি। জিনিস বিক্রি করে যা অর্থ উপার্জন হয়ে থাকে তা দিয়েই সংসার চালাই। আগামি দিন কীভাবে সাংসার চলবে ভেবে উঠতে পারছি না।

আরও এক বিক্রেতা হারাধন মিদ্যা জানান, আগে বাঁশের দাম কম ছিল তাই দামও কম ছিল। এখন বাঁশের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই জিনিসপত্রের উপর ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়াতে হয়েছে। দাম বাড়ার জন্য বিক্রি একেবারেই নেই বললেই চলে। আগামি দিন এই পেশায় কেউ থাকবেন কিনা তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রেতা পৌলমি দাস জানান, গতবছরের থেকে এবারে জিনিসের ধাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দাম সাধ্যের মধ্য না থাকায় জিনিস বেশি কিনতে পারিনি। খুব প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি নিয়েছি মাত্র।

Advertisement ---
---
-----