প্রাণ সংশয়ে বীমাকর্মী-সেলসম্যানরা, সুরক্ষা পথ ভাবতে মাথায় হাত সংস্থার

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ডেলিভারি বয় হোক কিংবা বিমার টাকা সংগ্রহের কর্মী,পেশা ভয় ধরাচ্ছে। পর পর একই ধাঁচে সংস্থার এজেন্ট , সেলসপার্সনকে খুনের চেষ্টা ভয় ধরাচ্ছে সংস্থার প্রধানদের। কর্মীদের আশ্বস্ত করার উপায় হাতরাচ্ছেন তারা।

প্রথম ঘটনা সপ্তাহখানেক আগের । চিমনি কেনার চেক বাউন্স করায় নাকতলার ক্রেতার বাড়িতে দুই সেলসপার্সনকে পাঠানো হয় নগদ টাকা নিয়ে আসার জন্য। বাড়ির মালকিন একজনকে বিষাক্ত সরবত খাইয়ে দেন। অপরজনের উপর বাড়ির পোষ্য কুকুর ছেড়ে দেন। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান দুই কর্মী। পরের ঘটনা আরও মারাত্মক।

বন্ধন ব্যাঙ্কের বিমাকর্মী টাকা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন হাওড়ার ডোমজুড়ে। ওই কর্মীকে খুন করে দেহাংশ আলাদা আলাদা করে কেটে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তার ধারে। প্লাস্টিকে খন্ড খন্ড অবস্থায় মেলে দেহ। বুধবারের ওই নৃশংস ঘটনার পর শুক্রবার ধরা পরে খুনি। দুই ঘটনাই প্রায় একই ধরনের। কিভাবে কর্মীদের আশ্বস্ত করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না কর্তারা।

- Advertisement -

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেলস পার্সন বলেন, “ভাবছি পেশা পরিবর্তন করে নেব কি না। নয়তো ইন হাউস কাজ করতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ভয় লাগছে। কোম্পানিতো পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু কে কেমন লোক হবে জানি না। সমস্যা হলে আমাদেরকেই তো সামলাতে হবে। যা হচ্ছে কিছু হয়ে গেলে তখন কেউ দেখার নেই।”

বন্ধন ব্যাঙ্কের কর্ণধার চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন, “আমি হতভম্ব। এমন নৃশংস ঘটনা কোনওদিন হতে পারে ভাবিনি। জানিনা কোন উপায় আছে কি না কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “হয়তো ডিজিটিজেশন করলে সমস্যার মিটতে পারে। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ কতটা টেক স্যাভি হবে তা বলা মুশকিল।”

সবমিলিয়ে বীমা কর্মী , সেলসম্যানের পেশা যে এখন আতঙ্কের সৃষ্টি করছে তা স্পষ্ট।

Advertisement ---
---
-----