গণপিটুনির ভয়ে উপহার পাওয়া গরু ফেরালেন আজম খানের স্ত্রী!

লখনউ : ভয়টা আগে থেকেই ছিল৷ সেই ভয়েই পরামর্শ দিয়েছিলেন মুসলিমরা যেন গরু পাচারে যুক্ত না থাকে৷ নইলে তাদের গণপিটুনির মুখে পড়তে হবে৷ সেই ভয় এবার ছড়িয়ে পড়ল নিজের ক্ষেত্রেও৷

সমাজবাদী পার্টি নেতা আজম খানের স্ত্রী তানজিম ফতেমা বুধবার গণপিটুনির আতঙ্কের কথা সংবাদমাধ্যমকে বলেন৷ তিনি জানান, নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি উপহার পাওয়া গরুও ফিরিয়ে দিয়েছেন৷ এই গরুটি তাদের পরিবারের অংশ ছিল বলে দু:খপ্রকাশ করেছেন আজম খানের স্ত্রী৷

তানজিম বলেন রাজস্থানের অলওয়ারে রাকবর খানকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনার পরেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে৷ তাই উপহার পাওয়া গরুও রাখতে চাননি তিনি, নিজের বাড়িতে৷

কারণ তাঁরা আশঙ্কা করছেন, কেউ সেই গরুটিকে মেরে ফেলে, তাদের ওপর সেই অপরাধ চাপাতে পারে৷ তাতে তাঁদের প্রাণহানিরও আশঙ্কা থাকছে৷ যদিও গরুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের পরিবারের প্রত্যেকে মর্মাহত৷

তিনি আরও জানান, গোবর্ধন পীঠের শঙ্করাচার্য অধোক্ষজনান্দ মহারাজ এই গুটি তাদের পরিবারকে উপহার দিয়েছিলেন৷ দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য তিনি দেশের বর্তমান মোদী সরকারকে দোষ দিয়েছেন৷ তাঁর মতে বিজেপির ভুয়ো হিন্দুত্ববাদের জন্য গোরক্ষার নামে এই হিংসা চলছে৷

গত চার বছর ধরে দেশে অরাজকতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তানজিম৷ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তা নেই বলেও এদিন মন্তব্য করেন তিনি৷ তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হিংসাত্মক ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি৷

রাজ্যসভার সাংসদ তানজিম এদিন ফের একবার কেন্দ্রকে নিজেদের লক্ষ্য স্থির করার আবেদন জানান৷ গঙ্গা দূষণ, গোরক্ষা ও ভাগবত গীতা ছাড়াও দেশের কাজে নিজেদের নিযুক্ত করার আরজি জানান৷

এর আগে, তিনি বলেছিলেন মথুরা জেলার গোবর্ধনের কাছে একটি গোশালা নির্মাণের জন্য তিনি ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেবেন৷ এদিন তিনি বলেন যে সব মুসলিমরা গো-পালন ও গরুর দুধের ব্যবসা করেন, তারা যেন অবিলম্বে সেই পেশা ছেড়ে দেন৷ নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা যেন অন্য জীবিকা বেছে নেন৷

Advertisement
----
-----