সাংসদ সেলিমকে পাকিস্তানি মনে করছে বিজেপি

নয়াদিল্লি: সাংসদ মহম্মদ সেলিম পাকিস্তানি। এমনই দাবি করেছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

সম্প্রতী একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্কসভায় অংশ নিয়েছিলেন সম্বিত পাত্র, মহম্মদ সেলিম সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। বিতর্কের বিষয় ছিল বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের বনধ।

আরও পড়ুন- সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রুখতে কোমর কষে নামছেন প্রধানমন্ত্রী

বিজেপি বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল বনধ সমর্থন করলেও তৃণমূল কংগ্রেস সেই পথে হাঁটেনি। যদিও বনধের ইস্যুতে পূর্ণ সমর্থন ছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের। বনধ পালন করতে গিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় বাম কর্মী সমর্থকদের।

এই সব বিষয় নিয়েই টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমে চলছিল বিতর্ক। সেই বিতর্কে বামেদের বক্তব্য জোরালভাবে উপস্থাপন করছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ সেলিম। সেই সময়েই বিজেপি মুখপাত্র সাম্বিত পাত্র মহম্মদ সেলিমকে ‘মিস্টার চায়না অ্যান্ড মিস্টার পাকিস্তান’ বলে সম্বোধন করেন।

আরও পড়ুন- এই খাবার কুকুরও খাবে না, বিমানের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রাষ্ট্রপতির

আলোচনায় উপস্থিত অনেকেই সম্বিত পাত্রের ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। জেডিএস দলের প্রতিনিধি তীব্র প্রতিবাদ করেন সম্বিত পাত্রের বক্তব্যকে। তাঁর বক্তব্য ছিল যে মহম্মদ সেলিম দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সাংসদ। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরণের মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়।

যদিও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে সাংসদ মহম্মদ সেলিম সুপ্রিম কোর্টকে অমান্য করছেন। সেই কারণে তাঁকে ‘মিস্টার পাকিস্তান’ বলেছেন সম্বিত।

বিজেপি মুখপাত্রের এই ধরণের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতৃত্ব। ‘জখন্য ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “ভারতের এক সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা এই নোংরা লোকটির কুরুচিকর বক্তব্যকে ধিক্কার জানাই।” একই সঙ্গে আরও বলা হয়েছে, “সেলিম শুধু ভারতীয় সংসদের চারবারের সাংসদ বা পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীই নন, তাঁর পিতা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন ও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজের দেশ ‘ভারত’-এ থেকে তাঁর সন্তানদের ধর্মনিরপেক্ষতা, ঐক্য ও সম্প্রীতির মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন।”

গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম আরও বলেছে, “সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে আহবান জানাই, এই সমস্ত বিভাজনকামী, কুপমণ্ডূক, হিংসাত্মক শক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠুন।”

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ফোন করা হয়েছিল রায়গঞ্জের সাংসদ মহম্মদ সেলিমকে। একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement
----
-----