বাস নম্বরের দেজাঁভুতে ভুগছে শহরবাসী  

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : দেজাঁভু কথার অর্থ মোটামুটি সবার জানা। যারা জানেন না তাদের জন্য বলে দেই এটি একটি ফরাসি শব্দ। আগে দেখা কোন ঘটনা যখন মনে হয় ফের আপনি দেখলে তখন তাকে বলা হয় দেজাঁভু।  ভাবছেন হঠাৎ এমন ফ্রেঞ্চ শব্দের সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনার কারন কি? কারণটি হল শহরেরই ২টি বাস রুট। এই দুই বাস সম্পূর্ণ আলাদা পথে চলে কিন্তু এদের রুট নম্বর কিন্তু হুবহু এক।

bus-01

কলকাতার রাস্তা দিয়ে অনবরত ছুটে চলে একই নম্বর বিশিষ্ট ভিন্ন রুটের বাস। ফলে বেশকিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছেন সাধারন মানুষ। ৭৫ হল সেই রুট নম্বর। ৭৫ এর একটি বাস চলে হাওড়ার কদমতলা থেকে ধর্মতলা অবধি। অপরটি চলে বাবুঘাট থেকে রায়পুর অবধি। গণ্ডগোলটি পাকে যখন দুটি বাস রেড রোডের কাছে আসে। কদমতলার বাসটি রেড রোড হয়ে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে যায়। অপরদিকে রায়পুরগামী বাসটি  বাবুঘাটের স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে ইডেনের পাশ দিয়ে বেঁকে এসে রেড রোড ধরে চলে যায় অন্য গন্তব্যে। অনেকেই বুঝতে পারেন না কোনটি কোথায় যাচ্ছে। দুই বাসের ড্রাইভার থেকে কন্ডাক্টর প্রত্যেকেই জানে এই গল্প। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এরকম একই নম্বরের অথচ ভিন্ন রুটের দুটি বাস কি এভাবে চালানো যায় ?

- Advertisement -

bus-03

এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম বাস সিন্ডিকেট কর্তা সুজয় বাবুর কাছে। তিনি জানালেন এই দুটি বাস অনুমতি পেয়েছে দুটি আলাদা আর.টি.আই থেকে। রায়পুরের ৭৫ নম্বর রুটের বাসের অনুমতি দিয়েছে দক্ষিন ২৪ পরগণার আর.টি.আই। কদমতলার  ৭৫ নম্বর রুটের বাসটির অনুমতি দিয়েছে হাওড়া আর.টি.আই।

bus-04

আরও বিষদ তথ্যের জন্য আমরা যোগাযোগ করি দক্ষিন ২৪ পরগণার আর.টি.আইয়ের সদস্য অচিন্ত্য পালের সঙ্গে। তিনি জানালেন আশির দশকের গোড়াতে বাবুঘাট থেকে রায়পুরগামী ৭৫ নম্বর রুটের বাসটির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু কদমতলার বাসের সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তা বলতে পারবে একমাত্র হাওড়ার আর.টি. আই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যদি কদমতলা থেকে ধর্মতলাগামী ৭৫ নম্বর রুটের অনুমতি যদি হাওড়া আর.টি.আই না দেয় তাহলে সেটি বেআইনি রুটের বাস বলেই  ঘোষিত হবে। হাওড়া আর.টি.আইয়ের যোগাযোগ করা  হলে তাঁরা জানান তাঁদের কদমতলা থেকে ধর্মতলাগামী ৭৫ নম্বরের বাসটির অনুমতি পায় ১৯৯৪ সালে। সবমিলিয়ে বিষয়টা এরকম দাঁড়ায় যে, কোন রুটই বেআইনি  নয়। কিন্তু একপ্রকার নিজেদের মতো অনুমতি দেওয়ার চক্করে পরে যাচ্ছেন সাধারন মানুষ।

তবে শেষে হাওড়া আর.টি.আই এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা আর.টি.আই উভয়েই কলকাতা ২৪x৭এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের মধ্যে এই “মিসকমিউনিকেশনের” কথাও তাঁরা স্বীকার করে নেন। হাওড়া আর.টি.আই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁদের অনুমতি দেওয়া কদমতলা-ধর্মতলাগামী ৭৫ নম্বরের বাসটির নাম বদলে লিখে দেবেন হাওড়া – ধর্মতলা। পাশে লেখা থাকবে তাঁদের রুট নম্বর। এতেই যাত্রীসাধারনের সমস্যা কমতে পারে বলে তাঁদের আশা। তবে দু পক্ষই নাক ঘুরিয়ে দোষী ঠাওরেছে পরিবহণ দফতরকে। বলছেন শেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু বাবুর পরিবহণ দফতর। তাঁরা নাকি স্রেফ কলে পড়ে গিয়েছেন।

ছবি : সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়

Advertisement
----
-----