অনুব্রতর ‘অ্যারেস্ট’ হুমকি নিয়ে মুখ খুললেন সঙ্গীতা

বর্ধমান: তাঁকে হুমকি দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলের দাপুটে নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলার সভাপতি। প্রকাশ্যে পুলিশকে বোম মারার কথা বলেন, পুলিশকে হুমকি দেন। তাঁর ছবিই আবার বুকের মাঝে রাখে পুলিশ। যার মাথায় অক্সিজেন কম যায়। তবে তাঁর মাথার উপরে হাত রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই শাসকলদের নেতার হুমকির পালটা জবাব দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন- ও বিজেপি করে, গাঁজার কেস দিয়ে অ্যারেস্ট করিয়ে দে: অনুব্রত

আলোচিত ব্যক্তি দ্বয়ের মধ্যে প্রথম জন হলেন সঙ্গীতা চক্রবর্তী। আর দ্বিতীয় জন তৃণমূল নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয় কেষ্ট। রবিবার দলীয় বৈঠকে বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সঙ্গীতাদেবীকে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন অনুব্রতবাবু। এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আউসগ্রামের বিধায়ককে।

- Advertisement -

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ছবি এখন বেশ ভাইরাল। সেই সোশ্যাল মিডিয়াতেই অনুব্রতবাবুর উদ্দেশ্যে জবাব দিয়েছেন সঙ্গীতাদেবী। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি বা আমার পরিবারের উপর যদি কোনও রকম বিপদ ঘনিয়ে আসে তাহলে তার জন্য একমাত্র দায়ি থাকবেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।”

যদিও অনুব্রত মণ্ডলের হিংসার শিকার এর আগেও হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সঙ্গীতা চক্রবর্তী। নিজেকে ভারতীয় মানবাধিকার সংরক্ষণ সংঘের রাজ্য সভানেত্রী বলে দাবি করা সঙ্গীতা দেবীর কথায়, “রায় দেড় বছর আগে আমার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আমার বাড়ি ও দোকান লুট করে বোমাবাজি করা হয়েছিল।” সেই ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডলের প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “আমার হাত-পায়ে প্লেট বসানো। আমি কার্যত বিকলাঙ্গ।” দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার শোষণ ও নিপীড়নের শিকার বলেও দাবি করেছেন সঙ্গীতা চক্রবর্তী।

রবিবার বোলপুরে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিং, আউসগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার সহ একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে এদিন সভার শুরু থেকেই বেশ চটে ছিলেন কেষ্ট। যার প্রভাব পড়ে কর্মীসভায়।

ওই কর্মীসভায় সনজ্ঞিতা চক্রবর্তীকে বিজেপি নেত্রী বলে উল্লেখ করেন অনুব্রতবাবু। এবং বৈঠকে উপস্থিত আউসগ্রামের বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলেন, “মোটা করে মেয়েটা কি নাম। ওকে এরেস্ট করিয়ে দে। ও বিজেপি করে, গাঁজা কেসে ধরিয়ে দে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কন্ট্রোল করতে পারবি কি না বল। নাহলে এরেস্ট করিয়ে দেব। কন্ট্রোল করতে পারবি? হা কি না বল।”

এই অ্যারেস্ট করিয়ে দেওয়ার কথা যে নেহাতই কথার কথা নয় তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। বিধায়ক অভেদানন্দের সঙ্গে বার্তালাপ শেষ হতেই জেলা সহ সভাপতি অভিজিৎ সিনহার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আউশগ্রামের আইসি-কে ফোনে ধরো। বর্ধমানের এসপি কে ফোন করো। ধরিয়ে দি।”

Advertisement ---
---
-----