স্টাফ রিপোর্টার: থারুর-বিজেপি তরজা অব্যাহত৷ কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের ‘হিন্দু পাকিস্তান’ মন্তব্য ঘিরে একের পর এক বাক্যবাণ আসছে গেরুয়া শিবির থেকে৷ অন্যদিকে নাছোড় থারুরও৷ প্রথম থেকেই তিনি বলে আসছেন, তাঁর বক্তব্যে কোনও ভুল নেই৷

এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে থারুর ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি যদি হিন্দু রাষ্ট্র তত্ত্বে বিশ্বাসই না করে সেটা তারা অন রেকর্ড স্বীকার করুক৷ সকলকে জানাক, তারা হিন্দু রাষ্ট্রে বিশ্বাসী নয়, ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রেরই পূজারি তারা৷

এরইমধ্যে শুক্রবার রাতে একটি টুইট করেন থারুর৷ সেখানে তুলে ধরেন বিজেপি ও আরএসএস সম্পর্কে দ্বারকার শঙ্করাচার্যের মন্তব্য৷ সম্প্রতি শঙ্করাচার্য স্বরূপানন্দ সরস্বতী দাবি করেন, প্রকৃত হিন্দুত্ববাদের ক্ষতি ছাড়া বিজেপি, আরএসএস আর কিছুই করছে না৷ এ কথাও জানান, তিনি অবাক হয়ে যান এটা ভেবে যে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত হিন্দুত্বের কিছুই জানেন না৷ তাই তিনি মনে করেন যিনি ভারতে জন্মান তিনিই হিন্দু! কিন্তু কোনও হিন্দু মা-বাবার সন্তান যদি আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন তাঁর কী ধর্ম পরিচয় হবে, সে প্রশ্ন ছিল দ্বারকার শঙ্করাচার্যের৷

থারুর এদিন তাঁর টুইটে শঙ্করাচার্যের সেই কথাগুলিই আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন তাঁর ফলোয়ারদের৷ বিরোধীরা অবশ্য এসব কথা কানে তুলতে মোটে আগ্রহী নয়৷ নিজেদের বক্তব্যেই অনড়৷ এরইমধ্যে কলকাতা কোর্টের তরফে শশী থারুরের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে৷ কারণ সেই ‘হিন্দু পাকিস্তান’ মন্তব্য৷

কলকাতার এক আইনজীবী সুমিত চৌধুরি এই মামলা দায়ের করেন৷ তিনি দাবি করেছেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন শশী থারুর৷ সংবিধানকে অপমান করেছেন কংগ্রেস সাংসদ৷ ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশে সাংসদের এমন কাজ বলে অভিযোগ উঠেছে৷ ১৪ আগস্টের আগে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে৷ জাতীয় সম্মান অবমাননার ধারায় মামলা করা হয়েছে৷

গত বুধবারই কেরলের তিরুবন্তপুরমে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে শশী থারুর বলেন, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপি যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে সংবিধান বলে দেশে কিছু থাকবে না৷ দেশটাকে হিন্দু পাকিস্তান বানিয়ে ফেলবে৷’’ থারুরের এই মন্তব্য ঘিরেই বিজেপির নেতাদের প্রতিবাদ৷

---