পথের কাঁটা দূর করতেই যুবরাজের হুকুমে বন্দি আরব রাজপুত্ররা?

বিশেষ প্রতিবেদন:   দুর্নীতি রুখতে অভিযান৷ মহল থেকে মহলে ছুটে গিয়েছে তদন্তকারী অফিসাররা৷ তাদের নেতৃত্বে ছিলেন যুবরাজ তথা ভবিষ্যৎ সৌদি বাদশা মহম্মদ বিন সলমন৷ তখন সুখনিদ্রায় ডুবে ছিলেন সৌদি রাজপুত্ররা৷ নিন্দুকের বলছে লাস্যময়ীদের কোল থেকেই নাকি অনেককে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়েছে৷ নিট ফল দুর্নীতির অভিযোগে ১১ জন রাজপুত্র সহ দেশটির নৌ প্রধান বন্দি৷ ঘটনায় আলোড়িত আরব দুনিয়া, চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে৷

গভীর রাতে আরব রাজপরিবারের অন্দরমহলে অভিযানের পিছনে কি শুধুই দুর্নীতি রোখা ? নাকি পথের কাঁটা দূর করতেই যুবরাজের এমন পদক্ষেপ ? এই প্রশ্ন উঠছে বিশ্বজুড়ে৷ কারণ বন্দি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড প্রধান ও নৌসেনা প্রধান৷ সৌদি প্রেস এজেন্সির রিপোর্ট, বন্দি নয় তাদের আটক করা হয়েছে৷

রাজপরিবারের মধ্যে অন্তর্ঘাত রুখতেই কি ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান মিতেব বিন আব্দুল্লার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হল ? উঠেছে এই প্রশ্ন৷ তাকেই সম্ভাব্য বাদশাহ বলে বিবেচনা করা হত৷ একইভাবে নৌ প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনেও সশস্ত্র ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ইঙ্গিত আসছে৷

- Advertisement -

সম্প্রতি জেড্ডায় সৌদি রাজ প্রাসাদে হামলা হয়৷ দুই রাজরক্ষীর মৃত্যু হয়৷ ধারণা করা হয়, সৌদি অন্দরমহলের দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল৷ বিপদ বুঝতে পেরেই বর্তমান যুবরাজের নির্দেশে ক্ষমতাধর সৌদি সেনাকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হল বলেই মনে করা হচ্ছে৷

তবে রাজপরিবারের মধ্যে দুর্নীতি দমন অভিযান ঘিরে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেয়নি সৌদি আরব সরকার৷ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ধারণা, যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে মসনদের উত্তরাধিকারীদের সরিয়ে দিতে চেয়েছেন৷

পড়ুন: সেবার সোনার তলোয়ারে কাটা হয়েছিল রাজপুত্রের মাথা

অভিযানের কিছু আগে সৌদি বাদশা সলমন আজিজের স্বাক্ষর করা আদেশ জারি করা হয়৷ তাতে বলা হয় দুর্নীতি রুখতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে না। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতেই হবে৷ বাদশা সলমন বিন আব্দুল আজিজ তাঁর পুত্র যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে বিশেষ দুর্নীতি বিরোধী কমিটির প্রধান করে দেন৷ পদাধিকার বলে যুবরাজ চাইলে যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়৷

এখানেই বিতর্ক, দুর্নীতির কারণ দেখিয়ে যে কোনও রাজপুত্রকে গ্রেফতার করা খুবই সোজা৷ বিশেষ করে সৌদি রাজপরিবারের একাধিক রাজপুত্র যখন মাদকাসক্ত ও দুর্নীতিতে জড়িত৷ এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মসনদের দাবিদার অন্যান্যদের উপড়ে ফেলতেই মরিয়া যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন আজিজ৷

রয়টার্স জানাচ্ছে, বন্দিদের তালিকায় আছে রাজপুত্র তথা ধনকুবের কিংডম হোল্ডিং সংস্থার মালিক আলওয়ালিদ বিন তালাল৷ রাজ অন্দরমহলে তার ক্ষমতা প্রভূত৷ এর পরেই উঠে আসছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইব্রাহিম আল আসাফের নাম৷ তারও বিশাল প্রতিপত্তি৷ আল আরাবিয়া টেলিভিশনের খবর, ১১ জন রাজপুত্র, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং দশজন প্রাক্তন মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে৷

Advertisement ---
---
-----