পণ মামলায় দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি : ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় মামলা হলে দ্রুত গ্রেফতারির নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট৷ ৪৯৮এ ধারায় মামলা যদি পণ সংক্রান্ত অভিযোগের ওপর দায়ের করা হয়, তবে সেই এফআইআরকে প্রথম প্রাধান্য দিয়ে গ্রেফতারির ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকে, এমনই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷

এদিন এই সংক্রান্ত আগের রায় সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট৷ শুক্রবার নিজের রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে ৪৯৮ এ ধারা অপব্যবহার হচ্ছিল বলে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে৷ তারপরেই সুপ্রিম কোর্ট এই ধারার পরিবর্তন করেছিল৷ তবে পণ মামলা সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগের সমাধান না হওয়া সমাজকে বিপথে চালনা করছে৷ পণপ্রথাকে কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এদিন জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷

পড়ুন: জুম্মাবারেই মসজিদে গেলেন নরেন্দ্র মোদী

- Advertisement -

সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ৪৯৮এ ধারার স্ক্রুটিনি বা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন৷ কারণ এর সঙ্গে অপরাধপ্রবণতার কারণ জড়িয়ে রয়েছে৷ বধূনির্যাতনের অন্যতম হাতিয়ার পণপ্রথা৷ সেই অপরাধকে দ্রুত নির্মূল করা প্রয়োজন৷ এই ধারার তাই সংশোধনী করে বিশেষ রায় দিল শীর্ষ আদালত৷

৪৯৮ এ ধারা নিয়ে পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিল শীর্ষ আদালত৷ তারা জানিয়ে ছিল ৪৯৮ এ ধারায় মামলা হলেই স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারির যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে৷ পণ আদায় ও বধূ নির্যাতন নিয়ে যে রায় ২০১৭ সালের ২৭শে জুলাই দুই বিচারপতির বেঞ্চ দিয়েছিল, তা স্ক্রুটিনি করে দেখা হবে পরবর্তীকালে, জানিয়ে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র৷

পড়ুন: সৌন্দর্যায়নের ‘অজুহাতে’ নেহরুর মূর্তি সরালো যোগীর সরকার

৪৯৮ এ ধারার অপব্যবহারের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েল ও বিচারপতি উদয় ললিতের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, পণ আদায় ও বধূ নির্যাতনের মামলায় অভিযোগ পেলেই কোনও মহিলার স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করা যাবে না৷

তবে সেই রায়ের বদল ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আইপিসি (ইন্ডিয়ান পেনাল কোড বা ভারতীয় দণ্ডবিধি) ৪৯৮-এ ধারায় কোনও অভিযোগ পেলে গ্রেফতার করতে হবে অভিযুক্তদের৷ বিশেষত, পণ সংক্রান্ত বধূ নির্যাতনের মামলা হলে, এফআইআরের সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে৷ তারপর দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে অভিযুক্তকে৷

অভিযোগ উঠেছিল এই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে৷ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সামান্য মনোমালিন্য হলেই স্ত্রী থানায় গিয়ে ৪৯৮-এ ধারায় অভিযোগ জানাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি চন্দ্রমৌলি কুমার প্রসাদ এবং বিচারপতি পিনাকীচন্দ্র ঘোষ তথ্য উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ২০১২ সালে ৪৯৮-এ ধারায় সারা দেশে গ্রেফতার হয়েছে ১,৯৭,৭৬২ জন। ৯৩.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অথচ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ১৫ শতাংশ।

Advertisement ---
-----