বাতিল হয়ে যাচ্ছে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিপাকে পড়লেন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী৷ শুক্রবার এক রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে ২০০১ সাল থেকে ডিমড ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে করেসপন্ডেন্স কোর্সে করা সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স বেআইনি। এই রায়ের ফলে ওই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া তরুণ তরুণীরা চরম বিপাকে পড়লেন।

প্রসঙ্গত ২০০১ সালেই এআইসিটিই, ডিস্টেন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স বাতিল বলে ঘোষণা করে৷ তারপরেও, এই প্রক্রিয়াতেই ডিপ্লোমা দিচ্ছিল জেআরএন রাজস্থান বিদ্যাপীঠ, রাজস্থানেরই ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন এডুকেশন, এলাহাবাদ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট ও তামিলনাড়ুর বিনায়ক মিশনস রিসার্চ ফাউন্ডেশন। এদের কাছে ইউজিসি-র অনুমোদনও ছিল না বলে অভিযোগ৷ এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ও এদের কোর্সের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়ে। শীর্ষ আদালত সমস্ত ডিমড ইউনিভার্সিটিকে এআইসিটিই-র অনুমোদন ছাড়া করেসপন্ডেন্স কোর্স করাতে নিষেধ করেছে। যে সব সরকারি আধিকারিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০০১ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কোর্স চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন: জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পাচ্ছেন ৯২ বছরের কৃষ্ণা সোবতি

- Advertisement -

এই সংক্রান্ত মামলার রায়দান করতে গিয়ে বছর দুয়েক আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা আদালতে করেসপন্ডেন্স কোর্সে প্রযুক্তিগত শিক্ষা সংক্রান্ত মামলায় একটি রায়দানের প্রসঙ্গও তুলে এনেছে বিচারপতি এ কে গোয়েল এবং বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের বেঞ্চ। সেই মামলার রায়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা আদালতের তরফে জানানো হয়েছিল, কম্পিউটার সায়েন্সে করেসপন্ডেন্স কোর্সে পাওয়া ডিগ্রির মূল্য কখনই নিয়মিত পাঠক্রমের সমতুল হতে পারে না। যদিও পৃথক একটি মামলায় ওড়িশা হাইকোর্ট করেসপন্ডেন্স কোর্সে পড়া প্রযুক্তিগত শিক্ষার ডিগ্রিকে মান্যতা দেয়। এদিন ওড়িশা হাইকোর্টের রায়ের বদলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা আদালতের রায়কেই মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি এ কে গোয়েল ও ইউ ইউ ললিতের বেঞ্চ বলেছে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশন বা ইউজিসি ও অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন বা এআইসিটিই দূরশিক্ষার মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয় না। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে বলেছে, ডিমড ইউনিভার্সিটিগুলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া তৈরি করতে৷ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিমড ইউনিভার্সিটি তকমা খতিয়ে দেখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে৷

আরও পড়ুন: মহিলাদের সুরক্ষিত করতে নয়া অ্যাপ আনল ভারতীয় রেল

তবে যে সব পড়ুয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২০০১-২০০৫-এর মধ্যে ভর্তি হন, তারা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে৷ এআইসিটিই-র আওতায় নতুন করে একটি পরীক্ষায় বসে তাতে পাশ করলে ডিপ্লোমা ফেরত পাবেন তাঁরা। পরীক্ষা পাশ করার দুটি সুযোগ তাঁরা পাবেন। কিন্তু আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৫-এর পর যাঁরা এই কোর্স করেন, তাঁরা এই কোর্সে অনুমোদন নেই জেনেই ভর্তি হন। তাই তাঁদের সার্টিফিকেট বাতিল বলেই গণ্য হবে।