হোয়াটস অ্যাপে মামলার শুনানি, বিস্মিত শীর্ষ আদালত

নয়াদিল্লি: ফৌজদারি মামলার শুনানি চলছিল ঝাড়খন্ড আদালতে৷ শুনানি শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেন বিচারক৷ মামলার শুনানির সময় আদালতে ছিলেন না অভিযুক্তরা৷ তাই হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করে অভিযুক্তদের সেই নির্দেশের কথা জানান বিচারক৷ আদালতের এহেন কাজের নজির দেখে হতভম্ব বনে যান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও৷ ক্ষুব্ধ বিচারপতিরা ঝাড়খন্ড আদালতের কাছে জানতে চান, বিচারব্যবস্থা নিয়ে এমন ছেলে খেলা করার অধিকার কে দিল?

২০১৬ সালের একটি পুরানো মামলায় ঝাড়খন্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে শুনানি চলছিল হাজারিবাগ নিম্ন আদালতে৷ সেই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেন বিচারক৷ এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই তাদের জামিন মঞ্জুর করে৷ তবে শর্ত চাপিয়ে জানিয়ে দেয়, মামলার শুনানির সময় কেবলমাত্র তারা ঝাড়খন্ডে আসতে পারবেন, তাছাড়া নয়৷

শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর তারা ঝাড়খন্ড থেকে ভোপাল চলে যান৷ সেই তারাই ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ঝাড়খন্ড আদালত হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পর৷ গোটা ঘটনাটি জানতে পেরে প্রথমে থতমত খেয়ে যান বিচারপতি এস এ বোবদে ও বিচারপতি এল এন রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ৷ জানিয়ে দেয়, বিচারব্যবস্থায় এই অমর্যাদাহানিকর ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না৷ কী ধরনের শুনানি এটা? এটা কি কোনও ছেলে খেলা? প্রশ্ন ক্ষুব্ধ বেঞ্চের৷

- Advertisement -

অপরদিকে নিম্ন আদালতের এই কাজের সাফাই হিসাবে ঝাড়খন্ডের আইনজীবী জানান, অভিযুক্ত জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন৷ অধিকাংশ সময় ভোপাল থেকে বাইরে থাকছেন৷ তার জেরে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে৷ যদিও এই দাবি ধোপে টেকেনি শীর্ষ আদালতে৷ বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে আলাদা করে পিটিশন দাখিল করা যেতেই পারত৷ তাছাড়া ভিডিও কনফারেন্স করেও রায় জানাতে পারত আদালত৷

উত্তরে ঝাড়খন্ডের আইনজীবী জানান, প্রথমে ভিডিও কনফারেন্স করার কথাই ছিল৷ কিন্তু ভোপালের জেলা আদালতে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া দুরহ৷ তাই হোয়াটসঅ্যাপ কল করে মামলার শুনানি চলে৷ তবে আইনজীবীর জবাব সন্তুষ্ট করতে পারেনি শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের৷ ঝাড়খন্ড আদালতকে দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাবদিহি দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতিদ্বয়৷

Advertisement ---
-----