সুপ্রিম কোর্টে আজ রাম মন্দির মামলার শেষ শুনানি

নয়াদিল্লি:   আগামী বছর ৮ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে বাবরি মসজিদের অন্তিম শুনানি হতে চলেছে৷

last Update: 5.30pm

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপুর্তির ঠিক একদিন আগে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শেষবারের মতো এই মামলার শুনানি হতে চলেছে৷ কয়েকদিন ধরে খবরের শিরোনামে অযোধ্যা ইস্যু৷ সৌজন্যে আর্ট অফ লিভিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা রবি শঙ্কর৷ আদালতের বাইরে অযোধ্যা মামলার মীমাংসা করতে দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি৷ এদিকে গত মাসে শিয়া ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছিল, অযোধ্যাতে রাম মন্দির হলে তাদের কোন আপত্তি নেই৷

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় এই মসজিদটি তৈরি করেন বাবরের সেনাপতি মীর বাকী৷ সেখান থেকেই মসজিদের নাম হয় বাবরি৷ অন্যদিকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী দশম শতকে এই জায়গায় একটি রাম মন্দির ছিল৷ মন্দিরের জমিতে মসজিদ হওয়া নিয়েই অযোধ্যা বিবাদের সূত্রপাত৷

জেনে নেওয়া যাক রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কের দশটি বিষয়

১) সেই ব্রিটিশ আমল থেকে অযোধ্যা রাম মন্দির ইস্যু নিয়ে হিন্দু মুসলিম বিবাদ লেগেই আছে৷ ১৮৫৩ সালে অযোধ্যায় প্রথম হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে রাম মন্দির ইস্যুতে সংঘর্ষ বাঁধে৷ যার জেরে ব্রিটিশ সরকার মসজিদকে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়৷ যাতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ধর্মীয় রীতি মেনে পুজো করতে পারে৷ এরপর স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে একটি ঘটনার পর অযোধ্যাকে বিতর্কিত জায়গা বলে উল্লেখ করে মসজিদের দরজা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার৷

২) পরবর্তীকালে নানা সময়ে মন্দির ও মসজিদের অধিকারের দাবি জানিয়েছে একাধিক হিন্দু ও মুসলিম সংগঠন আদালতের কড়া নাড়ে৷ ১৯৬১ সালে এরকমই এক পিটিশন দায়ের করে উত্তর প্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড৷

৩) ১৯৮০ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দির গড়ে তোলার জিগির তোলে৷ সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানায় বিজেপি৷

৪) ১৯৯০ সালে বিজেপি সভাপতি লাল কৃষ্ণ আদবানি রাম মন্দির নির্মাণের দাবিতে গুজরাত থেকে উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত রথ যাত্রার আয়োজন করেন৷ বিজেপির এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জায়গায় জায়গায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে৷ সেই ঘটনায় বিহার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আদবানিকে৷

৫) ১৯৯২ সাল ৬ই ডিসেম্বর৷ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন অযোধ্যার বাবরি মসজিদের সামনে৷ রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধ্বংস করা হয় মসজিদ৷ অস্থায়ী ভাবে তৈরি করা হয় রাম মন্দির৷ এদিকে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের খবর দাবালনের মতো ছড়ায়ি পড়ে৷ খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের সর্বত্র শুরু হয় সংঘর্ষ৷ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে অশান্তির বাতাবরণ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও নতুন করে মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন৷

৬) ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী দুই সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাম মন্দির বিতর্কে ইতি টানার চেষ্টা করেন৷ সেই বছরই এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হয়৷

৭) এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ পেয়ে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বিতর্কিত জমিতে খনন শুরু করে৷ তার রিপোর্টও আদালতে জমা করে তারা৷ সেই রিপোর্টে তারা জানান, বিতর্কিত জমিতে একটা সময় রাম মন্দির ছিল খননের পর সেই সংক্রান্ত প্রমাণ মিলেছে৷

৮) ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ঐতিহাসিক রায় দেয়৷ রায়ে বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমিকে তিনটি অংশে ভাগ করা হবে৷ সেই তিনটির একটি জমি দেওয়া হবে হিন্দু মহাসভাকে৷ আরেক ভাগ পাবে নির্মোহী আখারা৷ শেষ ভাগটি পাবে ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড৷

৯) ২০১৭ সালে অক্টোবর মাস৷ আদালতের বাইরে অযোধ্যা মামলার নিষ্পতি করতে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেন আর্ট অফ লিভিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা রবি শঙ্কর৷

১০) গত মাসে সিয়া সেন্টাল ওয়াকফ বোর্ড একটি প্রস্তাব দেয়৷ তারা প্রস্তাব দিয়ে বলে অযোধ্যাতেই হোক রামমন্দির৷ মসজিদ হবে লখনউতে৷ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে৷

Advertisement ---
---
-----