আতঙ্কে স্কুল বন্ধ, কৃমির ওষুধ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে

তমলুক : কৃমির ওষুধ খেয়ে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী, পূর্ব মেদিনীপুরে অসুস্থ হয়ে পড়া পড়ুয়ারা ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছে৷ হাওড়াতেও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, বাগনান, আমতা, শ্যামপুরের ৫০০ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছিল৷ পর্যবেক্ষণের রাখার পর তাঁরা এখন সুস্থ৷ তবে পড়ুয়ারা সুস্থ হলেও, আতঙ্ক কাটেনি৷ সে কারণেই হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, বাসন্তীর বেশ কিছু স্কুলে বৃহস্পতিবার তালা ঝুলতে দেখা যায়৷ যে স্কুলগুলি খোলা রয়েছে, তাদের তরফে জানানো হয়েছে এদিন কৃমির ওষুধ তাঁরা আর দেবেন না৷ অন্য দিকে, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সরবরাহ করা কৃমির ওষুধ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন এক আইনজীবী আবু সোহেল৷ তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন৷

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক অন্তরা আচার্য জানিয়েছেন, এদিন স্কুল বন্ধ রাখার কোনও নির্দেশ তাঁরা দিচ্ছেন না৷ পডুয়ারা সুস্থ হয়ে উঠেছে৷ তবে তমলুক, ময়না, কোলাঘাট যে সমস্ত এলাকায় বেশি ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়েছে সেখানকার স্কুলগুলি চাইলে পঠনপাঠন একদিনের জন্য বন্ধ রাখতে পারে৷ তাঁর কথায়, ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ঠিকই৷ তবে সংবাদ মাধ্যমে খবর সম্প্রচারিত হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্য বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল৷ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা৷

জেলাশাসক স্কুলছুটি ঘোষণা না করলেও, বৃহস্পতিবার একাধিক স্কুল ছিল বন্ধ৷ মহিষাদল গয়েশ্বরী গার্লসে সকালে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে৷ একই ছবি হাওড়ার বাগনান, আমতাতেও৷ হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস জানিয়েছেন, বুধবার রাতে আরও অনেক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে বাগনান, আমতার গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে৷ তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে৷ দু, তিনজনের বমি হচ্ছ৷ তবে বাকিরা সুস্থ৷

বুধবার কৃমির ওষুধ খেয়ে জেলায় জেলায় ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্কুলগুলিকে কৃমির ওষুধ দিতে বারণ করেছিলেন৷ তিনি জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা এ বিষয়ে তদন্ত করবেন৷ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই আপাতত স্কুলগুলিতে কৃমির ওষুধ দেওয়া বন্ধ থাকছে৷

 

 

----
-----