প্রফুল্লচন্দ্রের স্মৃতি তর্পণে মূর্তি গড়ল বিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির কারখানা৷ এককালের শ’য়ে শ’য়ে শ্রমিকের পেট চালাত৷ কিন্তু বর্তমানে সেই কারখানার জীর্ণ দশা৷ অবহেলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারখানাটি৷ তবে এই কারাখানার ইতিহাস অনেকের অজানা৷

মন্দারমণি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ঊনবিংশ শতকে দাদনপাত্রবাড়ে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় এই কারখানা গড়ে তোলেন। কিন্তু বর্তমানে সেইসবের আর কোনও অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তবে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সেই অবদান আজও ভোলেনি এলাকাবাসী৷ তাই তাঁর স্মৃতি রক্ষায় এগিয়ে এলেন ‘দাদনপত্রবাড় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় স্মৃতি রক্ষা কমিটি’। বেঙ্গল সল্টের স্মৃতি ধরে রাখতে দাদনপত্রবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হল প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের। রবিবার সকালে সাংসদ শিশির অধিকারী উন্মোচন করে মূর্তিটি। ছিলেন বিধায়ক অখিল গিরি সহ আরও অনেকে৷

আরও পড়ুন: হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার AIMIM কাউন্সিলর

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইনের প্রতিবাদে পাল্টা লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ৷ এই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে তৎকালীন বাংলার অবিভক্ত মেদিনীপুরেও। জেলার অন্য জায়গার সঙ্গে রামনগরের বাঁকশালঘাট, পিছাবনি এলাকাতেও সত্যাগ্রহ আন্দোলন কার্যত স্বদেশী আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনের জেরে পিছু হঠে ব্রিটিশ সরকার। ইংরেজরা লবণ আইন প্রত্যাহার করে ভারতীয়দের সমুদ্র উপকূলে লবণ উৎপাদনের অধিকার দেয়। লবণ তৈরির অধিকার পাওয়ার পরই প্রফুল্লচন্দ্র রায় বাংলাদেশের যুব সমাজকে লবণ তৈরি ব্যবসায় উৎসাহিত করতে উদ্যোগী হন।

১৯৩৪ সালে প্রফুল্লচন্দ্র রায় মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে নির্জন সমুদ্র উপকূলে গড়ে তোলেন ‘বেঙ্গল সল্ট কোম্পানি লিমিটেড’। তিনিই কোম্পানির প্রথম চেয়ারম্যান হন। ম্যানেজিং এজেন্ট হন কলকাতার হাটখোলা দত্ত পরিবারের মনুজেন্দ্র দত্ত। কোম্পানির পরিচালক মণ্ডলীতে ছিলেন যোগেশচন্দ্র চৌধুরী, এন.কে বসু, চারুচন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। প্রায় এক হাজার ছ’শো একর জমির উপর বিশালাকৃতির একাধিক ভেড়িতে নুন মিশ্রিত জল জমিয়ে লবণ তৈরির কাজ শুরু হয়। কারখানায় কাজ করতেন বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় পাঁচশো শ্রমিক।

আরও পড়ুন: সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত বিজেপি নেতা

১৯৬১ সালে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় কারখানা পরিদর্শন করেন। লবণ শিল্পের উন্নতির জন্য ফরাসী বিশেষজ্ঞদের নিযুক্তও করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে কোম্পানির ২৩ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় রাজ্য সরকারের শিল্প দফতর। তারপর প্রায় দু’দশক ভাল ভাবেই চলে কারখানাটি। কিন্তু ১৯৮৭ সাল থেকে কারখানাটি ক্রমে রুগ্ন হতে শুরু করে। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে কারখানার লোকসানের বোঝা।

২০০০ সালে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। কারখানার অনেক শ্রমিকই বর্তমানে মারা গিয়েছেন। প্রাপ্য বকেয়া না পেয়ে অনেকে দিনমজুরী করে কষ্টে দিনযাপন করছেন। তবে সেই কারখানার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই এখনও বসবাস করছেন আট জন শ্রমিকের পরিবার। অন্ধকারের মাঝেও তাই প্রফুল্লচন্দ্রের স্মৃতি তর্পণে মূর্তি গড়ার উদ্যোগ স্থানীয়দের৷

আরও পড়ুন: হচ্ছে না শ্যুটিং, সম্প্রচার বন্ধ হতে পারে বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকের!

Advertisement
---