কড়া নিরাপত্তায় দ্বিতীয় নাগরিকপঞ্জীর তালিকা প্রকাশ অসমে

গুয়াহাটি: ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে উত্তর-পূবের রাজ্য অসম। সোমবার সকাল দশটা নাগাদ প্রকাশিত হবে অসমের নাগরিকপঞ্জীর দ্বিতীয় তালিকা। যা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সমগ্র রাজ্যে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢা হয়েছে সমগ্র রাজ্য।

আরও পড়ুন- ৩.২৯ কোটির মধ্যে নাগরিকপঞ্জীর প্রথম খসড়ায় ঠাঁই ১.৯ কোটি

ফাইলে ছবি

এর আগে চলতি বছরের শুরু দিনে প্রকাশিত হয়েছিল প্রথম তালিকা। ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে অনলাইনে অসম সরকার ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনের (এনআরসি) খসড়া তালিকা প্রকাশ করে৷ আবেদনকারীর সংখ্যা ৩.২৯ কোটি৷ কিন্তু অসম সরকার নাগরিকপঞ্জীর যে প্রথম খসড়া প্রকাশ করেছে তাতে ১.৯ কোটির নাম নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন- নাগরিক তালিকায় জঙ্গি নেতা! নাম নেই সাংসদ-বিধায়কের

এদিকে যাদের নাম খসড়ায় নেই তারা ইতিমধ্যেই চিন্তায় পড়ে গিয়েছে৷ যদিও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই৷ এটা খসড়া মাত্র৷ পরবর্তী তালিকা প্রকাশ করা হবে৷ নাম না থাকার তালিকায় অধ্যাপক, জনপ্রতিনিধিদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও ছিলেন। যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এরপরেই জুলাই মাসেই ৩০ তারিখ সংশোধিত দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয় অসম সরকার।

আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন

১৯৫১ সালে প্রথম তৈরি হয় এই নাগরিকপঞ্জী৷ কিন্তু ছ’দশক পর তা পরিমার্জন করা শুরু হয়েছে৷ অসমে অনুপ্রবেশ জ্বলন্ত সমস্যা৷ প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে রাজ্যে ঢুকে পড়েছে৷ বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর রাজ্যে যারা বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছে তাদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে এই নাগরিকপঞ্জি৷

খসড়া তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিঘ্নিত হতে পারে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সেই কারণে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে৷ সংখ্যালঘুরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তালিকায় আদৌ তাদের নাম আছে কিনা৷ যাদের নাম তালিকায় নেই তারা অশান্তি পাকাতে পারে এই আশংকায় রাজ্য জুড়ে নামানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী৷

অসমের আড়াই হাজার এনআরসি কেন্দ্রের জন্য ২২ হাজার প্যারামিলিটারি সেনা মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-র বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। যেখানে বলা হয়েছে, “আমি সকলের কাছে আবেদন করছি কোনও গুজবে কান দেবেন না। ফেসবুক, ট্যুইটার বা হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়ানো হলে সেগুলি এড়িয়ে চলুন।”

আরও পড়ুন- ‘ক্ষমতায় এসে অসমের মত বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবেই’

প্রথম খসড়া প্রকাশের পর ওই তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। জানুয়ারি মাসের চার তারিখে লোকসভায় জিরো আওয়ারে বিষয়টি নিয়ে সর্ব হন বাংলার শাসকদলের সাংসদ সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নাগরিকপঞ্জীর প্রথম খসড়া থেকে বিপুল সংখ্যক বাঙালি বাদ পড়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূল৷ অভিযোগ, অসম সরকার বাঙালি খেদাও অভিযানে নেমেছে৷ এদিন সেই আশঙ্কার কথা সৌগত বাবু তুলে ধরেন লোকসভায়৷ বলেন, অসম থেকে বাংলাভাষী মানুষদের বের করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে৷ এরপরই তৃণমূলের বাকি সাংসদরা তাঁকে সমর্থন জানান৷

এদিকে তৃণমূলের এই চক্রান্তের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ বলেন, কারোর নাম তালিকা থেকে বাদ গেলেও চিন্তার কিছু নেই৷ পরের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে৷

Advertisement ---
---
-----