শহিদ পরিবারের সন্তানদের পড়াশুনার দায়িত্বভার নিতে তৈরি বীরু

নয়াদিল্লি: একটা সন্ত্রাসবাদী হামলা। আর তাতেই এককাট্টা গোটা ভারতবর্ষ। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের ঘৃণ্য হামলার বলি তরতাজা চল্লিশেরও বেশি জওয়ানের প্রাণ। পুলওয়ামার জঙ্গি হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে শহিদ জওয়ানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে দেশের বিভিন্ন মহল। পিছিয়ে নেই দেশের ক্রীড়ামহলও। অবন্তীপুরার ঘটনায় মর্মাহত দেশের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ টুইট করে শোকজ্ঞাপন করেছিলেন আগেই। এবার বীর শহিদ জওয়ানদের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার দায়িত্বভার নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন তিনি।

ঝাজ্জরে নিজের আন্তর্জাতিক স্কুলে শহিদ সন্তানদের পড়াতে চান তিনি। পুলওয়ামার ঘটনায় শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সেহওয়াগের এই ঘোষণা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।  টুইটারে শনিবার তিনি লেখেন, ‘আমরা যাই করি না কেন তা পর্যাপ্ত হবে না। কিন্তু পুলওয়ামায় বীর শহিদ জওয়ানদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্বভারটুকু আমি নিতে প্রস্তুত। ঝাজরে আমার স্কুলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের পড়াশুনার পাঠ নিলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করব।’ উপত্যকায় মর্মান্তিক ঘটনার পর সেহওয়াগের এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যায় দেশবাসীর।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। ঘটনার পর হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। মর্মাহত জাতীয় দলের প্রাক্তন এই ওপেনার এরপর টুইটারে শোকবার্তায় জানান, ‘জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের কাপুরুষোচিত হামলা এবং বীর জওয়ানদের শহিদ হওয়ার ঘটনার আমি ব্যথিত। কোন শব্দই এই বেদনা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

- Advertisement -

পিছিয়ে নেই বক্সার বিজেন্দর সিংও। হরিয়ানা পুলিশে কর্মরত অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সার তাঁর একমাসের বেতন শহিদ পরিবারের হাতে তুলে দিতে চান। অবন্তীপুরায় সিআরপিএফ কনভয় ও বাসে নৃশংস হামলায় দুঃখপ্রকাশ করে তিনি জানান, ‘আমি আমার একমাসের বেতন শহিদ জওয়ানদের পরিবারের হাতে তুলে দিতে চাই। সবাই এভাবেই শহিদ জওয়ানদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়াক। এটা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আসুন পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আত্মত্যাগের জন্য গর্বিত হই।’