ঐতিহাসিক লালকুঠিতে রমরমিয়ে চলছে অসামাজিক কাজ

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: বিজেপির ছত্রছায়ায় চলছে মধুচক্র৷ শুধু মধুচক্রতেই থেমে থাকেনি বিষয়টি৷ চলছে মদ ও জুয়ার ঠেক৷ ঘটনাটির সূত্রপাত হয় শুক্রবার মেদিনীপুর পুরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে লালকুঠীতে৷ অভিযোগ ফিজিও থেরাপি সেন্টারে মেস করা হয়েছে৷ আর সেখানেই মদ, জুয়ার ঠেক চলে৷ তার সঙ্গে মধুচক্র চলারও অভিযোগ উঠেছিল৷

ঘটনাস্থলে কোতয়ালী থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়৷ কিন্তু থেমে থাকেনি স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাঁরা শনিবার এলাকার কাউন্সিলর মৌ রায়কে সঙ্গে নিয়ে মেদিনীপুর কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করতে আসেন৷ অভিযোগ বিজেপির ছত্রছায়ায় কিছু লোক লালকুঠিরে অসামাজিক কাজকর্ম করছে৷ মহিলাদের টোন-টিং করা হয়, এছাড়াও চুরি-ছিনতাই, কেপমারী, শ্লীলতাহানি ইত্যাদি করারও অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে৷ এই সব অসামাজিক কাজ বন্ধ করার দাবিতে এবং লালকুঠিকে হেরিটেজ করার দাবি নিয়ে শনিবার কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কথাও বলেন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রমব বসুর সঙ্গে৷

- Advertisement DFP -

মৌ রায়ের অভিযোগ, ঐতিহাসিক লালকুঠি একটি প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র৷ সেখানে কিছু লোক মধুচক্রের আসর বসিয়েছে৷ পাশাপাশি জুয়ার ঠেক এবং মদের আসর বসত প্রায় প্রতিদিনই৷ কেউ এই অসামাজিক ঘটনার প্রতিবাদ করলেই কিছু যুবক প্রতিবাদীদের মারধর করত৷ এমনকি প্রতিদিনই নতুন নতুন যুবতী এনে চলত মধুচক্র৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ছক কেটে বসে থাকেন এলাকাবাসী৷ দুজন যুবক যুবতী সেন্টারে উঠলে এলাকাবাসী ঘিরে ধরে তাদের৷ খবর দেওয়া হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে৷ মৌ রায় আসেন ঘটনাস্থালে৷ সমগ্র বিষয় জেনে ফোন করেন কোতয়ালী থানায়৷ এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়৷ পুলিশ এসে সেন্টার টিকে ঘিরে রাখে৷ ওয়ার্ড কাউন্সেলর মৌ রায় বলেন এই রকম জিনিস বরদাস্ত করা হবে না।

তবে ওই কেন্দ্রের কেয়ারটেকার শুভব্রত ঘোষ জানান সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন৷ এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক শ্যামাপদ পাল মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী গীতারানী পাল আমাদের দেখাশোনার ভার দিয়ে কলকাতায় চলে যান৷ প্রথম প্রথম টাকা পেলেও বছর দুই কোন টাকা পয়সা পাঠাচ্ছেন না৷ তাই খরচ চালাতে এখানে একটি নেট মার্কেটিং-এর অফিস ও দোতালায় চারজন ছাত্রকে ভাড়া দিয়েছি৷ কিন্তু স্থলীয় কাউন্সিলার এটা দখল নিতে এই নাটক করে কিছু লোক নিয়ে এসেছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কোতয়ালী থানার পুলিশ৷

Advertisement
----
-----