‘পিকচার অভি বাকি হ্যয় মেরে দোস্ত’

অদ্রিকা দাস: ১৯৯২-২০১৮৷ কেটে গিয়েছে ছাব্বিশটা বছর৷ স্বপ্নের নগরী মুম্বই পাড়ি দিয়েছিল দিল্লির এক সাধারণ ছেলে৷ হিরো হওয়ার দৌড়ে সেই ছেলেটাও দাঁড়িয়েছিল ঠিকই৷ মুখের ওপর পড়া চুলের মাঝে ঝিলিক মারছে উজ্জ্বল দুটো চোখ৷ তাতে দানা বেঁধেছে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন৷ এই স্বপ্নের পথচলা যে সোজা নয় তা ও জানত৷ টানা ২৬ বছর কত কীই না দেখেছে সে৷ সাফল্য, ব্যর্থতা, সুখ, দুঃখ৷ সবকিছুর সঠিক পরিমাণে ভরে উঠেছে ছেলেটার জীবন৷ এই টানা ২৬ বছরের প্রথম কয়েক বছর জীবনের কঠিতম মুহূর্তের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল ছেলেটা৷

কাঁধের ওপর অসংখ্য দায়িত্ব৷ সেসব পুরো করতে না পারার জ্বালা যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খেত ওকে৷ একদিন তো রেগে গিয়ে লোকভর্তি রাস্তার মাঝে চিৎকার করে উঠেছিল৷ আর বলেছিল, “আর পারছি না এখানে থাকতে৷ ভীষণ বিরক্ত করছে আমায় এই শহরটা৷” কিন্তু সেই শহরই আজ ছেলেটার মনের কোনায় কোনায়৷ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আজ সে বলিউডের বাদশা৷ সেই দিল্লি কী লন্ডা হলেন শাহরুখ খান৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: ‘খিলজি’ ব্যাচিলর পার্টির সঙ্গী কে জানেন?

১৯৯২ সালে ‘ফৌজি’ ছবির হাত ধরে অভিনয় জগতে পাড়ি দিলেন শাহরুখ৷ থিয়েটার অভিনেতার কাছ থেকে দেখার সুযোগ হেলায় হারাননি তিনি৷ অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নাটকের মঞ্চ থেকেই পেয়েছেন তিনি৷ দিল্লি ছেড়ে মুম্বইয়ের বেঞ্চে কাটানো রাতের পর রাত৷ কোনও তারকার ছেলে নন, সেসময় তেমন ভালো দেখতেও ছিল না বলে রিজেকশনের লাল চিহ্ন বারে বারে পড়েছে তাঁর পোর্টফোলিওয়ে৷ ভেঙে পড়ে, হাল ছেড়ে অন্য প্রফেশন চলে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ তাঁকে দিয়েছিল এই বলিউডের কয়েকজন মানুষ৷

সেই সময় তাঁর ঝুলিতে এসে পড়ল ‘দিওয়ানা’৷ দিব্যা ভারতীর মতো অভিনেত্রীর বিপরীতে শাহরুখ খান৷ তখনও কোনও জায়গা অর্জন করতে পারেননি তিনি৷ খুব সহজেই দর্শকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারত তাঁর চরিত্র৷ কিন্তু নিজের অভিনয় গুণে, স্ক্রিন প্রেজেন্সে ছক্কা মারলেন কিং অফ দ্য বলিউড৷ তার পর থেকেই শুরু হল টিনসেলে ঝকঝকে সিঁড়ি বেয়ে আকাশ ছোঁয়ার পথচলা৷ নিজের ‘দিওয়ানা’পনে দর্শককে মজিয়ে হয়ে উঠলেন ‘জেন্টলম্যান’৷

আরও পড়ুন:  ফুল প্যাকেজ অফ সারপ্রাইজসেস: সঞ্জু

একের পর এক ভিন্ন ধারার চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চেনালেন শাহরুখ৷ কেরিয়ারের পিক টাইমে হয়ে উঠলেন অ্যান্টি হিরো৷ ‘বাজিগর’, ‘ডর’, ‘আন্দাজ’৷ বেশ প্রশংসিত হয়েছিল তাঁর পারফরমেন্স৷ খুব সহজেই বলিউড তাঁকে টাইপকাস্ট করে দিতে পারত৷ তবুও রিস্ক নিয়েছিলেন৷ কখনও হিরো তো কখনও অ্যান্টি হিরো৷ আবার একই ছবিতে নায়ক এবং ভিলেনের চরিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুললেন শাহরুখ৷ যেখানে তাঁর সমসাময়িক অভিনেতারা হিরোর রোল ছাড়া অন্য কোনো দিকে ভুলেও যেতেন না৷ সেখানে দাঁড়িয়ে পর পর কতগুলি ফিল্মে ভিলেনের চরিত্রে জোরদার অভিনয় করে মুগ্ধ করলেন অভিনেতা৷

এরপরই এল তাঁর জীবনের সেই মুহূর্ত, যা চিরকালের জন্য গেঁথে গেল দর্শকের মনে৷ প্রেমের নয়া পাঠ পড়াতে ক্যামেরার সামনে হাজির হল ‘রাজ’৷ দু’হাত বাড়িয়ে রাজের শুধু দাঁড়ানোর অপেক্ষা৷ ব্যস! কত মেয়েই যে নিজের হুঁশ হারিয়েছে তা বলা মুশকিল৷ নিজের ক্রাশকে দেখলেই জেন ওয়াইয়ের ছেলেরাও মনে মনে আওরায় রাজের সেই ‘পালট, পালট, পালট’৷ যশ চোপড়ার সুবাদে গোটা দেশ পেল ভালবাসার এই মানুষকে৷ সিনেপ্রমীরা পেল আল্টিমেট রোম্যান্স কিং৷

এখান থেকে ‘দ্য কিং অফ বলিউড’ হয়ে উঠতে আর বেশি সময় লাগল না৷ যারা তাঁকে রোম্যান্টিক হিরো বলে টাইপকাস্ট করা শুরু করল তাদের গালে সপাটে চর বসালো ‘চক দে ইণ্ডিয়া’৷ এই ছবিতে না ছিল গ্ল্যামার, না ছিল রোম্যান্স৷ ‘কবির খান’র দৃঢ় সেই চোখ বলিপাড়াকে মনে করালো ‘রাজ’র খোলস ছেড়ে বেরিয়ে ভিন্ন ধারার ছবিতেও অভিনয় করার ক্ষমতা রাখেন তিনি৷

‘দেবদাস’ এবং ‘কল হো না হো’এ বলিউডকে তিনি শিখিয়ে দিলেন মৃত্যু কখনই প্রেমের বেড়াজাল নয়৷ ভালবাসা বেঁচে থাকে মৃত্যুর পরও৷ খুব কম বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে বনের দায়িত্ব নিতে হয় তাঁকে৷ গৌরির পাশে থাকায় প্রতিবার নিজের ওপর ভরসা করতে পেরেছেন অভিনেতা৷ আরিয়ান এবং সুহানাকে নিয়ে তৈরি হল তাঁদের ছোট্ট পরিবার৷ সেই পরিবারে বহু বছর পর এলো আব্রাম৷ পূর্ণ হল শাহরুখ-গৌরির সম্পর্ক৷ শাহরুখের মতে, স্ত্রী, বোন এবং তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে আজ তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি৷

আর পাঁচজন অভিনেতার মতো শখে অভিনয় করতে আসেননি, এসেছিলেন অভিনয় করার পরিবর্তে নিজের দুঃখ ভুলিয়ে রাখতে৷ তিনি মনে করেন, যেদিন তাঁর জীবনে দুঃখের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যাবে, সেইদিন তিনি অভিনয় জগত থেকে বেরিয়ে আসবেন৷ নানা ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে বলিউডে ২৬ বছর কাটাবার পর আজ সেই নস্ট্যালজিয়ার পথ ধরে হেঁটে চললেন শাহরুখ৷ ট্যুইটারে শাহরুখের একটি শেয়ার করেছেন গৌরি৷ যা আপনাকেও এক তুড়িতে নিয়ে যাবে ১৯৯২ সালে৷ এক নিমেষে চোখের সামনে রেখে দেবে গোটা ২৬ টা বছরের শাহরুখের অভিজ্ঞতা৷ ‘দ্য কিং অফ বলিউড’ হয়ে ওঠার কাহিনি৷

Advertisement ---
-----