আবিরের বদলে পাপড়ি, ফুলদোলে রঙিন হয়ে উঠল দৃষ্টিহীন শিশুরা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অভিনব উপায়ে দোল উৎসবে মেতে উঠল দৃষ্টিহীন শিশুরা৷ রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত রং বর্জন করে তারা মেতে উঠল রংবেরঙের ফুলের পাপড়িতে৷

বুধবার বিকালে টালিগঞ্জের দ্য লাইট হাউস ফর ব্লাইন্ড স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য এই ‘ফুলদোল উৎসবে’র আয়োজন করেছিল ‘শারদীয়া’ পরিবার৷ এ দিন প্রায় ১০০ জন দৃষ্টিহীন শিশুর সঙ্গে ফুলের পাপড়ি দিয়ে দোল উৎসবে মেতে উঠলেন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের প্রায় ২৫০ জন সদস্য৷ তবে এটাই প্রথম বছর নয়৷ দোল উৎসবের আনন্দ থেকে যাতে দৃষ্টিহীন শিশুরাও বঞ্চিত না হয়, সেই জন্য গত পাঁচ বছর ধরেই এই অভিনব দোল উৎসবের আয়োজন হচ্ছে৷

তবে জলরং বা আবিরের বদলে ফুলের পাপড়ি কেন? বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী ওই সংগঠনের এক সদস্য সৌমনকুমার সাহা এমনই জানিয়েছেন, রং বা আবির, তা যতই হারবাল হোক না কেন, তাতে রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত থাকে৷ এর পাশাপাশি দৃষ্টিহীন শিশুদের কাছে রঙের গুঁড়ো আর পাঁচটা সাধারণ গন্ধহীন গুঁড়োর মতো৷ ফলে রঙের আনন্দ উপভোগ করা তাদের কাছে কঠিন হয়ে ওঠে৷ কিন্তু ফুল দিয়ে ‘রং খেলা’য় দৃষ্টি কোনও বাধা নয়৷ দৃষ্টিহীন শিশুরা স্পর্শ ও গন্ধের মাধ্যমে ফুলকে অনুভব করতে পারে৷ তাই এই দুই ইন্দ্রিয়কে হাতিয়ার করে রঙের বদলে রংবেরঙি সুগন্ধি ফুল দিয়েই দোল উৎসবে তাদের আনন্দ দেওয়া হয়েছে৷

- Advertisement -

এ দিন গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, গোলাপ সহ হরেকরকম ফুলের গন্ধে ম-ম করছিল স্কুল চত্বর৷ একে অপরের দিকে রঙের বদলে মুঠো মুঠো ফুলের পাপড়ি ছুঁড়ে দিচ্ছিল শিশুরা৷ তাদের সঙ্গে মেতেছিলেন ওই বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও৷ উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দৃষ্টিহীন শিশুরা নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনও করে৷ রঙের বদলে ফুলের পাপড়ি৷ কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে এই প্রচেষ্টায়৷ আর, তারই জেরে ফের প্রমাণ করল ওই শিশুরা উৎসবে মেতে ওঠার জন্য দৃষ্টিহীনতা কোনও বাধাই নয়৷

Advertisement ---
-----