শাস্ত্রী ভারতীয় ক্রিকেটে গ্রেগ চ্যাপেলের থেকেও বিপজ্জনক

লন্ডন: জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের জোড়া আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমপর্ণ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের৷ লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে হার কোহলিদের৷ ইনিংস ও ১৫৯ রানে হেরে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ০-২ পিছিয়ে টিম ইন্ডিয়া৷ লর্ডসে লজ্জার হারের পর কোচ রবি শাস্ত্রীর সমালোচনায় ঝড় উঠল টুইটারে৷ কোচ শাস্ত্রীকে ভারতীয় ক্রিকেটে গ্রেগ চ্যাপেলের থেকেও বিপজ্জনক বলছেন সমর্থকরা৷

বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের এহেন আত্মসমর্পণে লজ্জিত প্রাক্তনরা৷ আর হতাশ সমর্থকরা৷ এজবাস্টনে হারলেও লড়াই করেছিলেন বিরাটরা৷ কিন্তু ঐতিহ্যের লর্ডসে বিরাটদের ইনিংসে হারে ক্যাপ্টেন ও কোচকে দুষছেন সমর্থকরা৷ চূড়ান্ত ব্যর্থ ভারতীয় টপ-অর্ডার৷ প্রথম ইনিংসে ১০৭ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাইশ গজে বিরাটদের আত্মসমর্পণ মাত্র ১৩০ রানে৷

বিরাটের নেতৃত্বে ভারতের লজ্জাজনক হারে কোচ শাস্ত্রীর মুণ্ডছেদ করছেন সমর্থকরা৷ বিরাটদের ‘হেডস্যার’ হিসেবে রবি শাস্ত্রী অনিল কুম্বলের যোগ্য উত্তরসূরি নয়৷ এমনটাই অভিমত টিম ইন্ডিয়ার শুভচিন্তকদের৷ অবিলম্বে শাস্ত্রীর ছাঁটায় চান তাঁরা৷ ভারত ছাড়ার আগে শাস্ত্রীয় বচন, ইংল্যান্ডে ভয়মুক্ত ক্রিকেট খেলবে ভারত৷ কিন্তু লর্ডস টেস্টে ভয়মুক্ত নয়, ভীতসন্তত্র কোহলিদের দেখা গেল৷ অ্যান্ডারসনের গতি ও সুইংয়ের বিরুদ্ধে অসহায় আত্মসমর্পণ করে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ঐতিহ্যের লর্ডসে ১০০ টেস্ট উইকেটের মাইলস্টোন স্পর্শ করেন জিমি৷ প্রথম ইনিংসে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রান খরচ করে চারটি উইকেট তুলে নেন অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসার৷

আত্মসমর্পণের কথা স্বীকার করে নিয়ে বিরাট বলেন, ‘আমরা যা খেলেছি, তাতে গর্বিত হতে পারি না৷ ইংল্যান্ড জেতার মতোই খেলছে, আর আমরা হারার মতো৷’ এজবাস্টনে জেতার মতো পরিস্থিতি থেকে প্রথম টেস্ট হেরেছে ভারত৷ ৩১ রানে প্রথম টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় রুটবাহিনী৷ সেই আত্মবিশ্বাসে ভর করে লর্ডসে মাত্র তিন দিনে বিরাটদের শেষ করে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ২-০ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড৷

এখান থেকে সিরিজের স্বপ্ন দেখতে পারেন বিরাট কোহলি৷ কিন্তু বাস্তবে কি তা সম্ভব? ক্রিকেট ইতিহাসে একবারই এমনটা ঘটেছে৷ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ০-২ পিছিয়ে থেকে সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া৷ ১৯৩৬-৩৭ ডন ব্র্যাডম্যানের অস্ট্রেলিয়া ০-২ পিছিয়ে থেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যাশেজ জিতেছিল৷

বিরাট কি ব্র্যাডম্যান হতে পারবেন? তাহলে ৮২ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে৷ ভারতের টেস্ট ক্যাপ্টেন হিসেবে কোহলির শুরুটা হয়েছিল দারুণ৷ কোচ কুম্বলে ও ক্যাপ্টেন কোহলি জুটিতে টেস্টে দারুণ সাফল্য পায় টিম ইন্ডিয়া৷ কুম্বলের কোচিংয়ে কোনও টেস্ট সিরিজ হারেনি ভারত৷ কিন্তু শাস্ত্রীর কোচিংয়ে প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতলেও দ্বিতীয় সিরিজেই হারে ভারত৷ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জিতে টিম ইন্ডিয়ায় কোচিং কেরিয়ার শুরু করেছিলেন শাস্ত্রী৷ কিন্তু তার পর চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারে টিম কোহলি৷

গত বছর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর বিরাটদের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান কুম্বলে৷ শোনা যায়, ক্যাপ্টেন কোহলির সঙ্গে মতপ্রার্থক্যের জেরেই কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান কুম্বলে৷ তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিরাটের পছন্দের শাস্ত্রীকে বেছে নেয় সচিন-সৌরভ-লক্ষ্ণণের ক্রিকেট অ্যাডভাইজারি কমিটি৷ কিন্তু শাস্ত্রীকে গুরু গ্রেগের থেকেও বিপজ্জনক বলে মনে করছেন ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকরা৷

Advertisement ---
-----