অ্যাকাডেমি গড়েই ব্রিজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান শিবনাথ

হাওড়া: এশিয়াডে সোনা জিতে ঘরে ফিরলেন বাংলার দুই গর্ব৷ রবিবার রাতে এয়ারপোর্টে পা রাখতেই হাওড়ার শিবনাথ দে সরকার ও সন্তোষপুরের প্রণব বর্ধন’কে নিয়ে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস। যার রেশ অব্যাহত রইল সোমবারেও। মন্ত্রী থেকে জনপ্রতিনিধি সকলেরই অভিনন্দনবার্তা পৌঁছে গিয়েছে সোনাজয়ীদের কাছে। সোমবার সকাল হতেই এলাকার মানুষ, আমজনতার ঢল তাঁদের বাড়িতে।

‘তাসে নাশ’ এই আপ্তবাক্যকে একেবারে ভুল প্রতিপন্ন করে এশিয়াডের ব্রিজ পেয়ার্সে সোনা জিতে ফিরেছেন হাওড়ার শিবনাথ। আগামী দিনে চান একটি অ্যাকাডেমি তৈরি করতে। তার মাধ্যমেই এই মাইন্ড গেমকে ভবিষ্যতে তিনি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। এমনকি স্কুলেও চর্চার বিষয় হোক এই ব্রিজ, জানিয়েছেন শিবনাথ বাবু। তাঁর মতে, যেখানেই হোক আগামী প্রজন্মের জন্য আমার ইচ্ছে একটি অ্যাকাডেমি তৈরি করা। বাইরে সব জায়গাতেই এই ধরণের অ্যাকাডেমি চালু রয়েছে। পাশাপাশি স্কুলস্তরেও তা পৌঁছে গিয়েছে। আগামী দু’বছরে এই মাইন্ড স্পোর্টস গেম বাধ্যতামূলক হবে।

- Advertisement -

জাকার্তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সোনাজয়ীর শিবনাথের আরও সংযোজন, ‘ব্রিজ পেয়ার্সে বিজয়ী ঘোষণার পর পুরস্কার মঞ্চে যখন ভারতের জাতীয় পতাকা সবার প্রথম উঠছিল এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজছিল, সেই মুহুর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ভারতীয় হিসেবে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হচ্ছিল। আমি ভীষণ খুশি।’

পাড়ার বন্ধু, পরিবারের মানুষদের পূর্ণ সমর্থনের জন্যই এই জয় সম্ভব হয়েছে বলে জানান শিবনাথবাবু। তাস, পাশা যে আজ আর সর্বনাশা নয় সেটা ভুল প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আজ তাস গর্বের এবং কর্মের আশা। আগে আমরা পাড়ার যে রকে বসে তাস খেলতাম সেটাকে বলা হত ‘বেকার পার্লামেন্ট’। এখন এটা তাসের পার্লামেন্ট হয়ে গিয়েছে। জানিয়েছেন হাওড়ার সোনার ছেলে।

এদিন সকাল থেকেই সালকিয়া বিপ্লবী বীরেন ব্যানার্জী সরণিতে ছিল উৎসবের মেজাজ। পাড়ার সকলের প্রিয় কাচ্চু’দার সোনা জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা সবাই। মিস্টি মুখ আর জাতীয় পতাকা নিয়ে উচ্ছ্বাস তো ছিলই, আর ছিল ব্যান্ড পার্টি সহকারে উন্মাদনা। সকাল থেকেই শিবনাথবাবুর বাড়িতে এসে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভিনন্দন জানাতে আসেন মন্ত্রী-আমলারা। তালিকায় ছিলেন মন্ত্রী অরূপ রায়, কাউন্সিলর গৌতম চৌধুরী, শ্যামল মিত্র, বাপি মান্না থেকে শুরু করে অনেকেই।

Advertisement
---