”আলাউদ্দিন খিলজির মতো ব্যবহার করছেন বিজেপি রাম কদম”

মুম্বই: বিতর্ক থামছে না বিজেপি বিধায়ক রাম কদমের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে৷ এক জনসভায় মহিলাদের সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন এই বিজেপি বিধায়ক ৷ তিবি বলেন “আমি সবাইকে সাহায্য করব। যদি মেয়েরা প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে আমি তুলে নিয়ে এসে বিয়ে দেব।” এরপর তিনি সভায় উপস্থিত সবাইকে নিজের মোবাইল ফোন নম্বরও দেন। তারপর থেকেই শোরগোল পড়েছে এই বক্তব্যকে ঘিরে৷

শুক্রবার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করল শিব সেনা৷ এদিন বিজেপি বিধায়ক রাম কদমকে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে তুলনা করল তাঁরা৷ মেয়েদের অপহরণ করার বক্তব্য প্রসঙ্গেই এই তুলনা, বলাই বাহুল্য৷ প্রসঙ্গত, তেরো শতকে দিল্লির সুলতান ছিলেন এই আলাউদ্দিন খিলজি৷ তাঁর বিরুদ্ধে নারীদের অপহরণের ইতিহাস অজানা নয়৷

তবে রাম কদমের এই বিতর্কিত মন্তব্যে তাঁর দল চুপ কেন, সে প্রশ্ন তুলেছে শিবসেনা৷ তাঁদের মন্তব্য যেখানে মুসলিম মহিলার তিন তালাক ও নিকাহ হালালার মতো প্রথা থেকে মুক্তি দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেখানে মহারাষ্ট্র বিজেপি তাঁদের দলের বিধায়কের এই মন্তব্যের কোনও সমালোচনা করেনি, যা নিন্দনীয়৷

- Advertisement -

শিবসেনার বক্তব্য, আলাউদ্দিন খিলজির জন্য রাণী পদ্মিনীকে সম্মান রক্ষার্থে জহর ব্রত করে প্রাণ দিতে হয়েছিল৷ এখানে বিজেপির ‘খিলজি’র জন্য মহারাষ্ট্রের মেয়েদের জহর ব্রত পালন করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা৷ শিবসেনার মুখপত্র সামনার এক সম্পাদকীয়তে একথা বলা হয় বলে সূত্রের খবর৷

বিজেপি নেতা রাম কদমের সমালোচনা করে সামনায় বলা হয়েছে এই সব নেতাদের মহারাষ্ট্রের গৌরব ছত্রপতি শিবাজির নামও উচ্চারণ করা উচিত নয়৷ কারণ তাঁরা নিজের জাতিকে, নিজের দেশকে সম্মান দিতে জানে না৷

ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য দিন কয়েক আগে বিজেপির এই বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে। বিধায়ক রাম কদমকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা সুবোধ সাওজি। তিনি বলেন, “রাম কদম কিছুদিন আগে একটি সভায় বলেছেন, মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে এলে তিনি বিয়েতে সাহায্য করবেন। রাম কদম একজন বিধায়ক। তাঁর মুখে এমন লজ্জাজনক বয়ান দেওয়া শোভা পায় না।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “যেই জিভ দিয়ে তিনি এই কথা বলেছেন, তা ছিঁড়ে আনা হোক। যে ছিঁড়ে আনতে পারবে, তাঁকে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।”

তবে রাম কদমের বক্তব্যকে সমর্থন করেনি দল। বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।

Advertisement
---