মুম্বই: সুর নরম করছে শিব সেনা ? রাজ্যের বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রশাসনিক পদে শিব সেনার সদস্য বসায়, বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ শুক্রবারই এই পদগুলির আধিকারিকদের নাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ৷

তারপরেই দলীয় মুখপাত্রদের কথায় ইঙ্গিত মিলছে যে আসন্ন লোকসভা ভোটে হয়ত বিজেপির সঙ্গেই জোটে দেখা যেতে পারে শিব সেনাকে৷ তবে জুন মাসে শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ৷ তবে বরফ গলেনি৷ এরপর থেকেই আরও অবনতি হতে থাকে দুপক্ষের সম্পর্কের৷

তবে শুক্রবার ফড়ণবীশ ঘোষণা করেন রাজ্যের অধীনে থাকা সংস্থার ২১টি পদের ১১টি পাবে শিবসেনা৷ ১ টি শরিক আরপিআই ও বাকি গুলিতে বিজেপির সদস্য নিযুক্ত হবেন৷ তারপর থেকেই হাওয়া কিছুটা বদলায়৷ সেনার তরফে জানানো হয় সম্মানজনক রফা হলে, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে প্রস্তুত শিবসেনা৷ তবে এজন্য একাধিকবার আলোচনার দাবিও জানানো হয়েছে শিবসেনার তরফে৷

তবে এর আগে, অমিত শাহের সমর্থনের জন্য সম্পর্ক ক্যাম্পেনকে গুরুত্ব দেয়নি শিবসেনা৷ তারা জানিয়ে দিয়েছিল এই সমীকরণ খাটবে না তাদের কাছে৷ ২০১৯ সালে বিজেপির সঙ্গে কোনও জোটে যাবে না তারা৷ অর্থাৎ কার্যত এনডিএ থেকে সরে যাচ্ছে শিবসেনা৷ এমনই বলা হয়েছিল দলীয় মুখপত্র সামনার সম্পাদকীয়তে৷

দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’তে এক বিবৃতি প্রকাশ করে শিবসেনা৷ তাদের মত ছিল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের জন্য তাদের বিজেপির সাহায্যের প্রয়োজন নেই৷ দরকার নেই পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদীর মুখ ব্যবহারের৷

উপনির্বাচনে খারাপ ফলের জন্যই নিজেদের পুরোন বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে চাইছে বিজেপি বলে অভিযোগ করেছিল শিবসেনার৷ কিন্তু সেই পথে তারা হাঁটবে না বলে জানিয়ে দেয় দল৷
পালগড় উপনির্বাচনে বিজেপি শিবসেনার একা লড়ার ক্ষমতা দেখেছে৷ সেই ফলের ওপর নির্ভর করেই আত্মবিশ্বাসী হতে চেয়েছিল তারা৷ তবে এবার হাওয়া কিছুটা গুরতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের৷ সেক্ষেত্রে যদি শিবসেনার সঙ্গে মহারাষ্ট্রে বিজেপি জোট করে, তবে সেখানে বিরোধী জোটের সাফল্যের আশা কম বলেই মনে করা হচ্ছে৷

পাশাপাশি, বিহার সমেত এনডিএ শিবিরে জোট শরিকদের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করেছে বিজেপির, তাতে কিছুটা হলেও প্রলেপ পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের৷ যদিও, বৃহন্মুম্বই পৌরনিগমের ভোটে প্রথমবার বিজেপি ও শিবসেনা আলাদা আলাদা ভাবে লড়াই করেছিল। সেই নির্বাচনে শিবসেনা প্রথম ও বিজেপি দ্বিতীয় স্থান পায়। নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে জোট হলেও মেয়র পদের দাবি জানায়নি বিজেপি৷

----
--