ভোপাল: রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের পরিশ্রম এবং বিভিন্ন জনকল্যালমূলক প্রকল্প নেওয়ার পরও মধ্যপ্রদেশে আমাদের হারের সম্মুখীন হতে হয়েছে৷ এর পুরো দায়িত্ব আমি নিচ্ছি৷ ১৩ বছরের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঠিক এইভাবেই দলের হারের দায় নিজের উপর নিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান৷

তবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে এসে ‘ক্ষমতায় আসার ১০ দিনের মধ্যে চাষীদের ঋণ মুকুব’ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির কথা কংগ্রেস সুপ্রিমো রাহুল গান্ধিকে মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি শিবরাজ৷

এরপর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় এরপর কী তাহলে দিল্লির রাজনীতির দিকে পা বাড়াবেন শিবরাজ? উত্তরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জবাব, ‘‘হৃদয় এবং আত্মা মধ্যপ্রদেশে রয়েছে৷’’ মধ্যপ্রদেশে বিজেপি প্রয়োজনীয় সিট না পাওয়ার কারণে সরকার গড়তে পারেনি ঠিকই কিন্তু এরপর তিনি চৌকিদারের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান শিবরাজ৷

পাশাপাশি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই তিনি সরকার গঠন করতে চলা কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে বলেন , রাজনীতিতে লোক আসে যায় কিন্তু রাজনীতি থেকে যায়৷ এটাই গনতন্ত্রের সৌন্দর্য৷ আশা করি কংগ্রেস সরকার কৃষক বোনাস, সম্বল যোজনার মত কল্যানকর প্রকল্পগুলিকে বন্ধ করে দেবে না৷

২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনের কথা ভেবেই ‘সম্বল যোজনা’র মত জনকল্যানকর প্রকল্প নিয়ে এসেছিল মধ্যপ্রদেশ বিজেপি৷ কিন্তু ভোট বাক্সে তা প্রতিফলিত হয়নি৷ এ বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আমরা চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কোনও কারণে মানুষকে বোঝাতে ব্যার্থ হয়েছি৷ বিরোধীরা সাধারণ মানুষকে আমাদের বিরুদ্ধে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রীত্ব ছেড়ে যাওয়া শেষ মুহূর্তে বিপক্ষকে বোড়ের চাল দিয়ে যেতে ভুল করেননি শিবরাজ৷ রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি কংগ্রেস নিশ্চয় তার নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে৷ রাহুলজী বলেছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী বদলে ফেলবেন যদি তাঁরা কৃষি ঋণ মুকুব করতে না পারে৷’’

২৩০টি আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৬টি আসনের৷ ফল ঘোষণার পর জানা যায় কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ১১৪টি আসন৷ বিজেপি থেমে গিয়েছে ১০৯ এ৷ অর্থাৎ মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে উঠে এসেছে৷ এই পরিস্থিতিতে গোবলয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে মায়াবতী ও নির্দল বিধায়কেরা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল৷ কেন না মধ্যপ্রদেশে বিএসপি ও অন্যান্যরা মিলিয়ে মোট আটটি আসন পেয়েছে৷ শেষ পর্যন্ত মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির সমর্থনেই মধ্যপ্রদেশে সরকার গড়ছে কংগ্রেস৷

--
----
--