‘জেলে পাঠানো উচিত অসমের এনআরসি কমিশনারকে’

নয়াদিল্লি: সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলার অপরাধ৷ অসমের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা এনআরসির দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট৷

শীর্ষ আদালত মঙ্গলবার জানায়, আদালত অবমাননার দায়ে তাঁদের জেলে পাঠানো উচিত। এই দুই আধিকারিক হলেন এনআরসি-র কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা ও রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ।

এর আগে, সোমবার বেশ মজাদার মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন প্রতীক হাজেলা৷ তিনি বলেন, মহাভারতের অর্জুনের মত তিনি এখন শুধু মাছের চোখটাই দেখতে পাচ্ছেন৷ তাঁর কানে আর কোনও কথা ঢুকছে না৷ কোনও রাজনৈতিক চাপও অনুভাব করছেন না৷ কারণ তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য অসমে এনআরসি-র সুষ্ঠু ও সফল বাস্তবয়ন ঘটানো৷

- Advertisement -

তিনি বলেন কোনও দল বা ব্যক্তি বিশেষের প্রতি নয়, তিনি দায়বদ্ধ শুধু দেশের সংবিধানের প্রতি৷ সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে থেকে যে কাজ চলছে, তা শেষ করতে তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানান এদিন৷

তিনি সোমবার এও বলেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে চাপ আসছে৷ বিশেষ করে চাপ আসছে কংগ্রেসের তরফ থেকে৷ কিন্তু কোনও চাপের কাছেই মাথা নোয়াবেন না তিনি৷

হাজেলার এই মন্তব্যকেই ভালভাবে দেখেনি বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি আর এফ নরিম্যানের বেঞ্চ৷ সুপ্রিম কোর্টের মতে আগে থেকে এত মন্তব্য করার তাঁর কোনও অধিকার নেই৷ এত কথা বলার জন্য তাঁকে জেলে পাঠানো উচিত৷

সুপ্রিম কোর্ট এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে এই দুই আধিকারিককে নিজেদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ বলে, তাদের কাজ শুধু জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা সুষ্ঠুভাবে তৈরি করা। সংবাদমাধ্যমের সামনে গিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করা নয়। এমনকি এর পর থেকে এই ইস্যুতে কথা বলতে হলে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ও অনুমতি লাগবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

প্রতীক হাজেলা ছাড়াও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ৷ তিনি বলেন গোটা বিশয়টিই অপরিণত মস্তিষ্কের অবদান৷ গোটা বিষয়টিই দুর্ভাগ্যজনক৷ তাঁকেও সতর্ক করেছে আদালত৷ তাঁর কাজ যে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলা নয়, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

ইতিমধ্যেই এই দুই আধিকারিক নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দিয়েছেন৷ তবে প্রতীক হাজেলা জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে কথা বলার পরেই তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন৷

Advertisement
---