২১ এর হারানো চাকরি ফিরে পেতে চায় সিরাজুল

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচানোর খেসারত দিতে চাকরি খুইয়েছিলেন সিরাজুল ইসলাম৷ ২৫ বছর ধরে চাকরি নেই তাঁর৷ পরিবারকে নিয়ে প্রায় পথে বসতে চলেছেন তিনি৷ আশ্রয় বলতে শুধু ফেরি করে জীবন চালানো৷

২৫ বছর পর আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন সিরাজুল৷ আবেদন তাঁর হারানো চাকরি ফিরিয়ে দিন মমতা৷ না দেখা হয়ত হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে৷ তবে মমতার বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ তিনি আশ্বাস দিয়েছেন সিরাজুলকে৷ সোমবার তাঁর দফতরে কাগজপত্র নিয়ে সিরাজুলকে দেখা করতে বলেছেন তিনি৷

আজ থেকে ২৫ বছর আগে ২১ জুলাই ১৯৯৩ সালে চাকরি যায় পুলিশ কর্মী সিরাজুল ইসলামের৷ তাঁর অপরাধ ছিল তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণে বাঁচিয়ে ছিলেন৷ তারপরেই চাকরি যায় তাঁর৷ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবরডাঙা ইছাপুর ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের সরল সাধাসিধে এই মানুষটি অতি কষ্টে রয়েছেন নিজের পরিবার নিয়ে৷ পরিবার বলতে মা,বাবা, ভাই ও বোন।

- Advertisement -

সেদিনের সেই পুলি়শ কর্মী আজ ফেরিওয়ালা। সাইকেলে মুদিখানার জিনিস ফেরি করে বিক্রি করেন। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়৷ সেই অবস্থা বদলাতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন তিনি৷ সংবাদ মাধ্যমকে সিরাজুল বলেন ১৯৮৮ সালের ১৯শে জানুয়ারী পুলিশে চাকরী পান। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরন অভিযানের ডাক দেন। ব্রের্বোন রোড দিয়ে যাওয়ার সময় পথ আটকায় পুলিশ৷ শুরু হয় বচসা৷ পুলিশ লাঠিচার্জ করে৷ মাথা ফাটে মমতার৷

বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের এস আই নির্মল বিশ্বাস, সার্জেন্ট প্রদীপ সরকার এবং কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম। মমতাকে বাঁচাতে সেদিন সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দিকে বন্দুক তাক করেছিলেন।

এরপর বাকিটা ইতিহাস। মমতাকে বাঁচানো এবং বন্দুক তাক করার অপরাধে সিরাজুল সহ তিন জন পুলিশের উপর চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন৷ ১৯৯৬ সালে চাকরী থেকে বরখাস্ত হন সিরাজুল৷ তবে ১৮ বছর আইনি লড়াই করার পর চাকরি ফিরে পান নির্মল বিশ্বাস।

সার্জেন্ট প্রদীপ সরকারকে প্রমোশন ছাড়াই অবসর নিতে হয়৷ আর সিরাজুল ইসলাম হাইকোর্টে কেস করেও টাকার অভাবে বেশিদিন লড়তে পারেননি। সিরাজুল বলেন তারা দীর্ঘদিন সিপিএম বিরোধী৷ তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন তিনি৷ কিন্তু চাকরি ফেরত আসেনি৷ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন আবার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করতে চান। চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় এখন বুক বাঁধছে সিরাজুল ইসলামের পরিবার৷

Advertisement ---
---
-----