স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কেটে গিয়েছে পাঁচদিন৷ এখনও অধরা জুটমিল কর্মী রাজু বাল্মীকি খুনের দুষ্কৃতীরা। তাই এবার দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুরু হল আন্দোলন৷ সেই আন্দোলন থেকেই উঠল দোষীদের কড়া শাস্তির দেওয়ার স্লোগান৷

শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি হাজিনগর গরিফা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান-বিক্ষোভ হয়৷ আন্দোলনে অংশ নেন মৃত রাজু বাল্মীকির নাবালিকা কন্যা, পুত্র, স্ত্রী, মা-সহ অন্যান্য আত্মীয়রা৷ তাঁরা এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন৷

Advertisement

আরও পড়ুন: বধূ খুনে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গত সোমবার স্থানীয় দুষ্কৃতীদলের হাতে নৃশংস ভাবে খুন হন জুটমিল কর্মী রাজু বাল্মীকি। সেই ঘটনায় নাম জড়ায় স্থানীয় তৃনমূল কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল কাউন্সিলর তারক চৌধুরীরও। যদিও তিনি ঘটনার আগে থেকেই রাজ্যের বাইরে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।

চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ভোর বেলায় উদ্ধার হয়েছিল রাজু বাল্মীকির রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। সেই খুনের ঘটনার তদন্তে নামে নৈহাটি থানার পুলিশ। ঘটনার পর পাঁচ দিন কেটে গেলেও খুনিদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন: ছাত্রের কাছে হোয়াটস অ্যাপে এল মোমো খেলার প্রস্তাব

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’মাস আগে স্থানীয় নির্দল কাউন্সিলর তারক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠরা রাজুবাবুর নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচারণ করে৷ তিনি ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন৷ এর জেরে সেদিন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল৷ দুষ্কৃতীদের সঙ্গে রাজুবাবুর বচসা ও মারামারি হয়৷ সেই শত্রুতার জেরেই এই খুন বলে অভিযোগ৷

আরও পড়ুন: খেলতে খেলতে মর্মান্তিক পরিণতি দুই শিশুর

মৃতের স্ত্রী রেখা বাল্মীকি বলেন, ‘‘আমার স্বামীকে সুপারি কিলার ভাড়া করে ওরা খুন করল। ওরা ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে সুপারি কিলার ভাড়া করে এনেছিল। ওই খুনিরা আমার স্বামীকে নৃশংস ভাবে তার শরীরে ৯ জায়গায় কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। যারা আমার স্বামীকে ক্ষতবিক্ষত করে খুন করল, তাদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।’’ তাই তিনি অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন৷ একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘এখনও কেন গ্রেফতার হল না কেউ?’’

আরও পড়ুন: ওষুধের দোকানের তালা ভেঙে দুঃসাহসিক চুরি

স্থানীয় বাসিন্দা সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বরাবরই প্রতিবাদী স্বভাবের ছিল রাজু বাল্মীকি। এলাকায় মদ, জুয়ার আসর বন্ধ করতে চাইছিল৷ এমনিতেই দুষ্কৃতীদের চক্ষুশূল ছিল রাজু। স্থানীয় নির্দল কাউন্সিলর তারক চৌধুরীর সঙ্গেও শত্রুতা তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে । এসব কারনণেই ওকে খুন করা হয়েছে। এখন কতদিনে খুনিরা ধরা পড়ে সেটাই দেখার’’

আরও পড়ুন: জমি দখল ঘিরে বোমাবাজি-অগ্নিসংযোগে উত্তপ্ত বড়জোড়া

----
--