বাসন মাজার স্কচবাইট দিয়েই উমাকে গড়লেন তপন

স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর: কাঁসার বাসন কিংবা ট্যাবলেট, কখনও বা আইসক্রিমের কাঠি, খেঁজুর গাছের গুড়ি, মিষ্টি, এমনকি সবজি দিয়েও উমাকে গড়ে দর্শনার্থীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ ফি বারই নিত্য নতুন জিনিস দিয়ে উমাকে গড়ে তোলায় তাঁর নেশা৷ এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ এবারে বাসন মাজার স্কচবাইট, জালি ও গায়ে সাবান ঘষার ধুঁদুলের খোসা বা ছোবড়া দিয়ে প্রতিমা গড়ছেন নদীয়ার গয়েশপুরের বাসিন্দা তপন পাল।

ফাইন আর্টসের ছাত্র তপনবাবু ১০ফুট উচ্চতার প্রতিমা বানতে ব্যবহার করছেন লাল, সবুজ, খয়েরি ও কালো রঙের স্কচবাইট। প্রতিমা গড়ার তালিকায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ছোবড়া ও জালি। বিভিন্ন রঙের স্কচবাইট গুলিকে একটার সঙ্গে আরেকটা আঠা দিয়ে জুড়ে রূপ দিচ্ছেন দেবী প্রতিমার। দেবীর গহনা হিসেবে ব্যবহার করছেন বাসন মাজার জালি। ৬০হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রতিমা গড়তে সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস।

বাসন মাজার স্কচবাইট, জালি ও গায়ে সাবান ঘষার ধুঁদুলের খোসা বা ছোবড়া দিয়ে তৈরি তপনবাবুর প্রতিমার দেখা মিলবে নদীয়ার চাকদহের সেবার্থী সংঘের মন্ডপে। তবে এবারের পুজোয় শুধু চোখ ধাঁধানো একটি প্রতিমা নয়, তপনবাবু গড়েছেন চারটি প্রতিমা৷ ধান, চাল, কালোজিরা, শুকনো লঙ্কা ও তেচপাতা দিয়ে তৈরি করেছেন উমা। আরেকটি হচ্ছে খেলনা পুতুল ও রান্না খেলার সরঞ্জাম দিয়ে। অপর দুটির একটি তাল গাছ খোদাই করে মিশরীয় ধাঁচে এবং অপরটি করছেন বিভিন্ন রকমের ভুজিয়া ও কুরকুরে দিয়ে। ভুজিয়া ও কুরকুরে দিয়ে তৈরি প্রতিমাটি থাকবে তপনবাবুর নিজের পাড়া গয়েশপুরের মালঞ্চ ক্লাবে। শিল্পী তপন পালের কথায়, ‘‘নিত্যনতুন উপকরণ দিয়ে প্রতিমা গড়ায় আমার লক্ষ্য৷ আসলে দর্শনার্থীরা আনন্দ পেলে আমার আনন্দ৷’’

Advertisement ---
---
-----