স্মৃতির দাওয়াই জুটমিলগুলিকেও

কলকাতা: পাটজাত দ্রব্যের বাজার ধরতে প্রতিবেশি বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে । তা মোকাবিলা করতে ভারতের জন্য জোড়া দাওয়াই দিলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

বৃহস্পতিবার বণিকসভার মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এক অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, একদিকে জুটমিলগুলিকে বাজার ধরার জন্য শুধুমাত্র সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকলে চলবে না, বরং পাটের গুণগত মান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পাটজাত দ্রব্য যাতে আরও বেশি করে উৎপাদন ও রফতানি করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ১৮-তেও চিনকে ছাপিয়ে বিশ্বের সবথেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতি ভারতের

- Advertisement -

বণিকসভার এই অনুষ্ঠানে স্মৃতি ইরানি জানান, পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন ও রফতানিতে যেভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তা রীতিমতো আশ্চর্যের। এর অন্যতম কারণ হল এদেশে যে পাট তৈরি হয়, তার গুণগত মান খারাপ। তাছাড়া পাটকে হরেক কাজে ব্যবহার করার জন্য যে মানের কাঁচামাল দরকার, সেটাও এখানে পাওয়া মুশকিল হচ্ছে।

এজন্য কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক রাজ্যগুলিকে একযোগে বলছে, শংসাপত্র আছে এমন বীজ ব্যবহার করার জন্য চাষিদের উৎসাহ দেওয়া দরকার হবে। মন্ত্রীর বক্তব্য জুটমিলের মালিকরা যদি এই বিষয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলে একদিকে যেমন চাষিরা বেশি রোজগার করতে পারবেন, তেমনই আরও উন্নত মানের পাট উৎপাদন সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ভারতকে ছাপিয়ে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

আপাতত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাদ্যশস্যের ৯০ শতাংশ এবং চিনির ২০ শতাংশ পাট বা চটের থলিতে রাখা বাধ্যতামূলক। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, সরকার কী করছে, শুধু তার উপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। পাটকে আরও হরেক কাজে লাগাতে হবে।

একারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। এখন টেকনিক্যাল টেক্সাইল বা জিওটেক্সটাইলের মতো ক্ষেত্রে পাট নিয়ে কাজ হচ্ছে। আবার চিকিৎসার কাজেও পাটের ব্যবহার হচ্ছে । পাটকে কাজে লাগান হচ্ছে রাস্তা তৈরিতে যা জিও টেক্সাইলের মধ্যে পড়ে। অটোমোবাইল ক্ষেত্রে পাট ব্যবহার করা হয়, যার পরিচিতি টেকনিক্যাল টেক্সটাইল হিসেবে।

আরও পড়ুন: ২০১৮ তে সবথেকে দ্রুতগতিতে এগোবে ভারতের অর্থনীতি: রিপোর্ট

স্মৃতি ইরানি জানান, পাটকে আরও উন্নততর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে তহবিল রয়েছে তাতে ১৭ হাজার ৮২২ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপারেল প্যাকেজ হিসেবে আরও ছ’হাজার কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র ৷

Advertisement
---