বৃষ্টি-তুষারপাতে বিপর্যস্ত উত্তর ভারত, দেখুন ছবি

নয়াদিল্লি: রাজ্যে শীত গুটিয়ে থাকলেও, উত্তর ভারতে অন্য খেলা দেখাচ্ছে আবহাওয়া৷ নতুন করে বরফ পাতে আপাতত কাঁপছে দেশের উত্তর প্রান্ত৷ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঝুরো ঝুরো বরফে ঢেকে গিয়েছে হিমাচল প্রদেশের একাংশ ও জম্মু কাশ্মীর৷ তাপমাত্রার পারদ নামছে ক্রমশই৷

পশ্চিমি ঝঙ্ঝায় তাপমাত্রা আরও নামতে পারে৷ সতর্কবাণী শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ জম্মু কাশ্মীরের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে টানা তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ইতিমধ্যেই বৃষ্টি ও বরফের সৌজন্যে জম্মু শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে আপাতত কাশ্মীরের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ কার্গিলের তাপমাত্রা মাইনাস ১৪.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ দ্রাসের তাপমাত্রা নেমেছে হিমাঙ্কের ৬.৮ ডিগ্রিতে৷

 

রবিবার থেকেই কুপওয়ারা, গুলমার্গ সহ উত্তর কাশ্মীরের তাপমাত্রার পারদ পাল্লা দিয়ে নামছে৷ মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ লেহ লাদাখের অবস্থাও তথৈবচ৷ হিমাঙ্কের ৫.৬ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে তাপমাত্রা৷

শৈত্যপ্রবাহ চলছে হিমাচল প্রদেশ জুড়ে৷ হিমাচল প্রদেশের উঁচু এলাকাগুলিতে যেমন বরফপাত চলছে, তেমনই অপেক্ষাকৃত নীচু জায়গাগুলিতে চলছে বৃষ্টি৷ সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত৷ সোমবার রাত পর্যন্ত লাহুল ও স্পীতি এলাকায় ১৮ সেন্টিমিটার পুরু বরফপাত হয়েছে৷ ডালহৌসিতে ১০ সেমি, কালপাতে ৬.৪ সেমি, পুহ ও সাংলাতে ৪ সেমি করে বরফপাতের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ সুন্দরনগর, ভুন্টার, ধরমশালা, নাহান, পালামপুর, সোলান, মানালি, বিলাসপুর, হামিরপুর, চাম্বার মতো এলাকায় টানা বৃষ্টি চলছে৷ আগামী তিন দিন এই পরিস্থিতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে৷

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্জাব ও হরিয়ানাও৷ পঞ্জাবের গুরুদাসপুরকে শীতলতম এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ সেখানে তাপমাত্রা ৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ দুটি রাজ্যে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷

এদিকে, ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হয়েছে নয়াদিল্লির ট্রেন চলাচল৷ প্রায় ১৫টি ট্রেন একসাথে দেরিতে চলছে বলে জানানো হয়েছে রেল মন্ত্রকের তরফে৷ এই কুয়াশার আস্তরণ থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ ফলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷