ওষুধের বদলে সাবান-শ্যাম্পু-ফিনাইল-হেলথ ড্রিঙ্ক

বিশ্বজিৎ ঘোষ: ওষুধের বদলে মিলছে সাবান-শ্যাম্পু-ফিনাইল৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ওষুধের বদলে মিলছে পাউডার, স্যানিটারি ন্যাপকিন এমনকি হেলথ ড্রিঙ্কও৷ যেমনটা চাইবেন, মিলবে তেমনটাই৷নিয়মের গেঁরোয় পাতা ফাঁদে, ওষুধের বদলে এমন নানা দ্রব্য কার্যত বাধ্য হয়ে নিতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের৷ এমনটাই এখন নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ রাজ্যের সেরা সরকারি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে৷

ওষুধের পাশাপাশি চিকিৎসার সহায়ক নানা সরঞ্জাম বিক্রি হয় সরকারি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান তথা ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপে৷এর সঙ্গে কসমেটিক্স এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যও বিক্রি হয় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে৷ ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে যা-ই বিক্রি করা হোক না কেন, ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বাধিক মূল্যের উপর যেভাবে ছাড় দেওয়া হয়, সেই রকম ছাড় দেওয়ার কথা অন্যান্য দ্রব্যের ক্ষেত্রেও৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানগুলি থেকে সাধারণত কসমেটিক্স অথবা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য সেভাবে বিক্রি হয় না৷

কাজেই, ওই সব দ্রব্য বিক্রি করতেই ক্রেতাদের কার্যত ফাঁদে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে৷ আর, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের পাতা ওই ফাঁদে পড়েই, ওষুধের বদলে কসমেটিক্স অথবা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত নানা ধরনের দ্রব্য কার্যত নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীর পরিজনরা৷ এসএসকেএম হাসপাতালে কীভাবে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে রোগীর পরিজনদের? দেখা গেল, কোনও রোগীর পরিজন কোন ওষুধ কিনবেন, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের কর্তব্যরত কর্মীকে তা প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলেন৷ এর পর রোগীর ওই পরিজন অপেক্ষা করছেন ওষুধের জন্য৷ এ দিকে, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থেকে যখন ওই পরিজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওষুধ দেওয়া হল,  তখন দেখা গেল, প্রেসক্রিপশনে নেই এমন ওষুধও বিল করে দেওয়া হয়েছে৷

- Advertisement -

কোনও কোনও ক্ষেত্রে রোগীর সচেতন পরিজন বিল পাওয়ার আগে ধরেও ফেলছেন যে, প্রেসক্রিপশনে নেই এমন ওষুধও তাঁকে দেওয়া হয়েছে (ততক্ষণে অবশ্য টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন তিনি)৷কোনও ক্ষেত্রে আবার রোগীর পরিজন হয়তো কোনও ওষুধ লাগবে না বলে ফিরিয়ে দিতে এসেও, নিয়মের গেঁরোয় ওই ফাঁদে পা দিতে কার্যত বাধ্য হচ্ছেন৷একবার টাকা দিয়ে দেওয়া হলে, ওই টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থেকে৷ তখন, ওই টাকার বিনিময়ে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থেকে কিছু না কিছু নিতে হবে৷ এমনই নিয়মের গেঁরোয়, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ না থাকলে তখন ওই টাকার বিনিময়ে অন্য কিছু নিতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের৷ আর, এ ভাবেই কার্যত ফাঁদে ফেলে সাবান, শ্যাম্পু, ফিনাইল, পাউডার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, হেলথ ড্রিঙ্ক অথবা কসমেটিক্স অন্য কোনও দ্রব্য নিতে বাধ্য করা হচ্ছে রোগীর পরিজনদের৷

এমন ঘটনার বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথীকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এই ধরনের কোনও অভিযোগ নেই৷ অভিযোগ এলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷’ যদিও, রোগীর পরিজনদের কার্যত ফাঁদে ফেলে ওষুধের বদলে কসমেটিক্স অথবা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত কোনওম দ্রব্য নিতে বাধ্য করার অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে এসএসকেএম হাসপাতালের ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপে৷ তা হলে কী করছে রাজ্যের সেরা সরকারি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের দোকানের উপর নজরদারিতে গঠিত মনিটরিং কমিটি? এ বিষয়ে অবশ্য এসএসকেএম হাসপাতাল তথা কলকাতার আইপিজিএমইআরের অধিকর্তা প্রদীপ মিত্রর কোনও বক্তব্য মেলেনি৷তবে, এসএসকেএম হাসপাতালের ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অম্বরীশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না বলে অনেক সময় কসমেটিক্স দ্রব্য নিতে হয়৷ তবে যে ধরনের অভিযোগ উঠছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷’

ভুল ওষুধের জেরে রোগী তো সমস্যায় পড়তে পারেন? রাজ্যের সেরা সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কথায়, ‘যে রোগীর পরিজন বুঝতে পারলেন যে ওষুধ ভুল দেওয়া হয়েছে, তিনি না হয় সামলে নিলেন৷ কিন্তু, যে পরিজন বুঝতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে তো রোগী ভুল ওষুধ খেয়ে ফেলবেন৷কাজেই, সমস্যা হতেই পারে৷’ একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বহু রোগীকে এসএসেকএম হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁদের পরিজনরা৷ তার উপর, এমনটা তো সম্ভব নয় যে, কী ওষুধ কেনা হল ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থেকে, প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে তা মিলিয়ে দেখে নেওয়া হবে৷ কাজেই, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, ভুল ওষুধের জেরে যে কোনও বিপদ ঘটে যেতে পারে, তারও আশঙ্কা করছেন ওই চিকিৎসক৷

==========================================================================

Advertisement ---
---
-----

Comments are closed.