ঘরে ফেরার স্বপ্ন এখনও সুদূর, তবুও হাসছে ওরা

ব্যাংকক: ‘আমাদের খুব খিদে পেয়েছে। আমরা কিছু খেতে চাই’ মানুষের গলার আওয়াজ পেয়েই বলতে শুরু করল গুহায় আটকে পড়া শিশুরা। উদ্ধারকারীরা বলল, ‘আজ নয়, আমরা কাল আসব খাবার নিয়ে।’ দিন দশেক পর খোঁজ মিলেছে তাদের। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তাদের ছবি। আর গুহার বাইরে তখন একে অপরের পিঠ চাপড়াচ্ছে উদ্ধারকারীরা। যেন যুদ্ধজয়ের হাসি তাদের মুখে।

ক’দিন জোটেনি খাবার। চারপাশে জল। আর কোনোদিন ফেরা হবে মায়ের কাছে? এতদিনে ক’টা গোল দিল মেসি কিংবা রোনাল্ডোরা? আর কোনোদিন ফুটবল পায়ে ছোটা হবে সবুজ ঘাসে? ১০টা রাত ধরে হয়ত এসবই ভেবেছে ওরা। মানুষের গলা শুনে ফুটেছে হাসি। তবে, সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও যোজন দূরে। তবু ওদের হাসিটুকুও লড়াইয়ের শক্তি যোগাচ্ছে থাইল্যান্ডকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। গুহার বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের চোখে-মুখেও খুশির ছাপ। জায়গায় জায়গায় চলছে প্রার্থনা-পুজো।

১২জন খুদে ফুটবলার আর তাদের কোচ আটকে রয়েছে গুহায়। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী বলছে, মাসখানেকও লেগে যেতে পারে তাদের উদ্ধার করতে। তাদের খুঁজে পাওয়ার মুহূর্তটা ফেসবুকে পোস্ট করেছে ‘নেভি সিল’। তাদের কণ্ঠস্বরের অপেক্ষায় ছিল গোটা বিশ্ব। ‘তোমরা ক’জন আছ?’ ভিতর থেকে উত্তর আসছে ‘১৩’। এই ত সবাই বেঁচে আছে! স্বস্তির নিঃশ্বাস। আর বাবা-মায়েরা? তাদের ট্যাবে-ল্যাপটপে ঘুরছে সন্তানদের হাসিমুখের ছবি। টর্চের আলোয় উজ্জ্বল মুখগুলো বারবার দেখেও যেন আশ মিটছে না।

উদ্ধারের মুহূর্তটা কেমন ছিল?

ছেলেরা: থ্যংক ইউ, থ্যাংক ইউ।
উদ্ধারকারী: কতজন আছ?
ছেলেরা: ১৩
উদ্ধারকারী: বাহ, দারুণ।
ছেলেরা: আমরা কি আজ বেরোব?
উদ্ধারকারী: না না আজ নয়। আমরা দু’জন আছি। আমরা প্রথম এলাম। আরও অনেকে আসবে।
ছেলেরা: আজ কোন দিন?
উদ্ধারকারী: আজ সোমবার। তোমরা ১০ দিন ধরে এখানে আছ। তোমরা সত্যিই খুব শক্ত।
ছেলেরা: আমাদের খিদে পেয়েছে।
উদ্ধারকারী: আমরা জানি। আমরা আসছি।
ছেলেরা: আমরা কিছু খাইনি। আমরা খেতে চাই।
উদ্ধারকারী: আমরা কাল আসব। খাবার, ডাক্তার সঙ্গে নিয়ে আসব।
ছেলেরা: আমরা খুব খুশি।
উদ্ধারকারী: আমরাও খুশি।

কবে হবে ঘরে ফেরা?

উত্তরটা সত্যিই কঠিন। সেদেশের সেনাবাহিনী বলেছে, উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসতে কয়েক মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। চিয়াং রাই প্রদেশের ওই পাহাড়ি গুহার ভেতর এমনভাবে জল ঢুকে পড়েছে যে তাদের সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার পথটি পুরোপুরি ডুবে গিয়েছে। ১৩ জনের ফুটবল দলটি সেই গুহার মধ্যে একটি কার্নিশের মতো শুকনো খাঁজে বসে আছে।

দলটি এমন জায়গায় আটকা পড়ে আছে যে গুহার বাইরে আসতে হলে তাদের ডুবুরির মতো জলের নিচ দিয়ে সাঁতার কাটা শিখতে হবে, অথবা কয়েক মাস গুহার মধ্যেই অপেক্ষা করতে হবে, যতদিন জল না নামে। চার মাস ধরে হয়ত বাইরে থেকে খাবার পাঠিয়ে যেতে হবে। এমনটাই আশঙ্কা সেনাবাহিনীর। কারণ, ক্রমাগত বাড়ছে জল।

Advertisement
----
-----