সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আপনি কি খুব টেকস্যাভি, আর তা নিয়ে খুব গর্বিত? আপনার বছর বারোর সন্তানও সোশ্যাল মিডিয়ার পোকা? কিন্তু আপনি কি জানেন এই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সর্ষের মধ্যে লুকিয়ে ভূত’। তাও দেহ ব্যবসার। রীতিমত অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করেই চলছে যৌন ব্যবসা। টাকার লেনদেনও হচ্ছে অনলাইনেই।

পত্রমিতালির আড়ালে কলকাতায় রমরমা সেক্স র‍্যাকেট!

সোশ্যাল মিডিয়া অবশ্যই একটা মঞ্চ। কিন্তু সেই মঞ্চ কিভাবে ব্যবহার হবে সেটা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর উপর। অপরাধীরা সোশ্যাল মিডিয়াকেই কুকীর্তির জন্য বেছে নিচ্ছেন। দেশে এর জন্য অনেক আইন রয়েছে কিন্তু এই সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে পুরো চক্রকে ধরে ফেলা প্রায় অসম্ভব বলেই দাবি করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সেই কারনেই দেহব্যবসা বেশ্যালয় থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি সেক্স র‍্যাকেট এখন তৈরি হচ্ছে ‘ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে’-ই। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপে মিলছে তার প্রমাণ। টাকার লেনদেন হচ্ছে পেটিএমের মাধ্যমে।

‘ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবে’র নাম করে যৌনতার প্রলোভন! শহরে চক্রের হদিশ

‘পূজা আর’ নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল রয়েছে যেখানে হোয়াটস অ্যাপ নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে তারা দেশের সমস্ত শহরে এসকর্ট পরিষেবা দিয়ে থাকেন। হোয়াটস অ্যাপে দেখা যাচ্ছে এই সংস্থা আদতে দিল্লির। সংস্থার নাম ‘পূজা ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’। এই ক্লাবে ১৫০০ টাকা দিয়ে রেজিস্টার করা যায়। টাকার লেনদেন হবে ডিবিএস ব্যাংক মারফৎ। হোয়াটস অ্যাপে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, ‘যার যা ইচ্ছা, যেমন ইচ্ছা হবে, তেমন পরিষেবা তাঁরা পাবেন’। ফেসবুক প্রোফাইলে অবশ্য রাজ্যের নাম দেওয়া হয়েছে পঞ্জাব।

সেক্স-র‍্যাকেট! ফ্ল্যাট থেকে অশ্লীল অবস্থায় আটজনকে ধরল পুলিশ

প্রীতি ঘোষ নামে এরকমই আরও একটি প্রোফাইল রয়েছে ফেসবুকে। সেখানেও একই পদ্ধতিতে চলছে দেহ ব্যবসা। প্রোফাইলের ছবিই বলে দেবে ঠিক কি জন্য এই প্রোফাইল খোলা হয়েছে। এই চক্রটি বোলপুরের। আরও এমন একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভাবে ফ্রেন্ড সাজেশন আসছে। সিন্ধা নামের অ্যাকাউন্টে ‘সেক্স ভিডিও চ্যাট’-এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। খরচ ৮০০ টাকা। টাকা দিতে হবে পেটিএমের মাধ্যমে। অগ্রিম ৫০০ টাকা দিতে হবে।

আইটি বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপই দেহ ব্যবসার বা সেক্স রকেটের প্রধান মাধ্যম হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশে এর জন্য ৬৭এ, ৬৭বি ধারায় শাস্তির ব্যবস্থা রেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল এই অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং এদের ধরা। আমাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যে সিস্টেম আছে তা দিয়ে এইসব চক্রের বংশ ধ্বংস করা বা ধরে ফেলা সম্ভব নয়। এটা এমনই একটা জগত যে একটা প্রোফাইল হ্যাক করলে অন্য স্থান থেকে অন্য প্রোফাইল বানিয়ে কাজ শুরু হয়ে যাবে। এদের জাল অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। ট্র্যাক করে ফেলা অত্যন্ত কঠিন।”

বন্ধুত্বের টোপ দিয়ে চলা মধুচক্রের পর্দা ফাঁস

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এর সঙ্গে এখন অনেক ট্যুরিজম সংস্থাও জড়িয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। এই ব্যবসাটা আবার বেশী চলছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে।

বিশেষজ্ঞদের আরও সতর্কবানী, হাইটেক যুগে টেকস্যাভি হওয়া প্রয়োজন কিন্তু সেটা মাত্রাতিরিক্ত হলেই সমস্যা। কিভাবে কখন আপনি বা আপনার পরিবার এই চক্রের শিকার হয়ে পড়বে তা বোঝা মুশকিল।

https://youtu.be/ayOxpvzUfgI

----
--