স্বর্ণালী চৌধুরী: আমার জন্মের আগে থেকে অসমে বাঙালি খেদাও চলছে৷ আমি যখন সেভেনের ছাত্রী তখন বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করে৷ আমি নিজেও সেই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ি৷ বাঙালিরা অসমে থাকতে পারবে না— এমনটা মেনে নেওয়া যায় না৷

শিলচর মূলত বাঙালিদের জায়গা৷ কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে বাঙালি ছেলেমেয়েদের চাকরি পেতে অসুবিধে হয়৷ সারা অসম জুড়ে অসমীয়দের আধিপত্য এতই বেশি যে, বাঙালিদের সংকটের সম্মুখীন হতে হয়৷

Advertisement

নাগরিক পঞ্জী থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় মনে হল আমরা যেন এখনও পরাধীন৷ এ জন্য এবারের স্বাধিনতা দিবসে আমি বিপন্নতা বোধ করেছি৷ অনুপ্রবেশ রোধ হওয়া উচিত৷ কিন্তু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি বৈধ নাগরিকরা যেন তাঁদের নাগরিকত্ব ফিরে পায়৷

লেখিকা স্বর্ণালী চৌধুরী (বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবী, শিলচর)

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন তালিকাচ্যুত অসমবাসীর পাশে দাড়িয়েছেন৷ কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে৷ তিনি যদি শুরু থেকে পাশে থাকতেন তাহলে এই দুর্দিন দেখতে হত না৷ অসমে আজ বাঙালি বিপন্ন, বাংলাভাষা বিপন্ন৷

১৪৪ ধারা জারির সময় বাংলা থেকে সাংসদ ও বিধায়কদের শিলচর আগমন আমি ভাল চোখে দেখিনি৷ আর সাতদিন বাদে ওনারা এলে কার্যবহুল হত এবং অসমে তৃণমূলের জয়জয়কার হত৷

অসমে এনআরসির বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ সাধন দে৷ তিনি আমাদের রাজ্যের ‘আমরা বাঙালি’ কমিটির সদস্য৷ যেদিন চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয় সেদিন আমরা খুবই বিষণ্ণ হয়ে পড়ি৷

তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বিদ্দজনরা আমাদের অসহায়তার জন্য কলকাতায় প্রতিবাদ সভা করেছিলেন৷ তারপর এনআরসি ইস্যু সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে৷ আমরা এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছি৷ সুপ্রিম কোর্টের রায় পজেটিভ হলে স্বস্তি পাব৷

*সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখন অরুণাভ রাহারায়

----
--