দেবযানী সরকার, কলকাতা: শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে অবশেষে পুরোনো ফর্মে ফিরছেন সোমেন মিত্র৷ বৃহস্পতিবার, ৩১ মে থেকে তাঁর হাতে গড়া পার্টি অফিস বিধান ভবনে বসবেন তিনি৷ দীর্ঘ দিন পর অনুগামীদের সঙ্গে দেখাও হবে তাঁর৷ এ কথা ভেবে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত এখন ‘ছোড়দা’৷

শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা নিয়ে গত মার্চ মাসের শেষের দিকে তাঁকে দিল্লির এইমস-এ ভর্তি করানো হয়। ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল তাঁর। কিডনিতেও জল জমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। এক মাসের মতো সময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েছিলেন তিনি৷ বাড়ি ফিরেও একপ্রকার গৃহবন্দি ছিলেন৷ চিকিৎসকদের নানা ‘নিয়মের বেড়াজালে’ থাকতে হয়েছিল তাঁকে৷ কিন্তু, আর মন মানছিল না৷ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে বসার জন্য৷ এ বার থেকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার নিয়ম করে কংগ্রেস অফিসে বসবেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র৷

Advertisement

অসুস্থ হওয়ার আগে মাঝে-মধ্যে বিধান ভবনে আসতেন তিনি৷ কিন্তু এ বার দফতরে নিয়মিত বসা নিয়ে ‘ছোড়দা’ নিজেও খুবই উচ্ছ্বসিত৷ kolkata24X7.com-কে তিনি বললেন, “যে লোক সব সময় কর্মীদের সঙ্গে থাকে তাঁর কি আর ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগে?” তবে শরীর ঠিক থাকলে সপ্তাহে দু’দিনের বদলে তিন-চারদিনও বসতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷

১৯৭২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত, টানা সাতবার শিয়ালদহের বিধায়ক ছিলেন সোমেন মিত্র। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হয়েছেন। এক সময়ে দল থেকে বেরিয়ে নিজের দল বানিয়েছেন— প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস। তার পরে কিছুই হবে না বুঝে সেই দলকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। এর পর ঘাসফুলের টিকিটে চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকে স্ত্রী শিখা মিত্রকে বিধায়ক করে, নিজে ডায়মন্ড হারবার থেকে সাংসদ হয়েছেন।

সেই ‘সংসার’ অবশ্য সুখের হয়নি। যার জেরে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফিরে গিয়েছেন কংগ্রেসে। কিন্তু ফেলে আসা জায়গা ফেরত পাননি। অধীররঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ নেতা হিসাবেই তাঁকে লড়তে হয়েছে চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে ‘ছোড়দা-ম্যাজিক’ কাজ করেনি৷ তিনি হেরে গিয়েছিলেন৷

বেশ কয়েকবার দল বদলেছেন সোমেন মিত্র। এখন তিনি সাংসদ, বিধায়ক নন৷ অনেকে এমনও মনে করেন, তিনি এখন সেভাবে দলের কেউকেটা কেউ নন৷ কিন্তু, তাঁর নামের ওজন এখনও আছে৷ ‘ছোড়দা’র আসার খবর পেয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁর বহু অনুগামী বিধান ভবনে আসার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন৷ হুগলি জেলার এক কংগ্রেস নেতার কথায়, ‘‘দাদা আসবেন, আর আমরা যাব না তা হয়? এখন কলকাতার অফিসে কজ’ন আর যায়৷ দেখবেন, দাদা এলে বিধান ভবনে ভিড় বাড়বে৷”

শুধু দলের অফিসেই বসবেন, না কি লোকসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলায়ও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে? সোমেন মিত্র বললেন, “জেলাগুলোতেও যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে৷ তবে ডাক্তার এখন যেভাবে বলবেন সেভাবেই চলতে হবে৷” এ রাজ্যে এখন কংগ্রেসের অবস্থা শোচনীয়৷ প্রতিদিন ঘর ভাঙছে৷ সেখানে কংগ্রেসের চেয়ারে বসে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি ও সাদা চটি পড়া ‘ছোড়দা’র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি আদৌ উজ্জ্বল হবে? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশে৷

----
--