দেবযানী সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে দলের স্বাস্থ্য ফেরাতে ফের সোমেন মিত্রকেই প্রদেশ সভাপতির পদে বসাতে পারে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড৷ দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদেশ সভাপতির দৌড়ে যে ত্রিমূর্তির নাম রয়েছে সেখানে তিনি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন৷ সোমেন মিত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাব এলে তিনি ভেবে দেখবেন৷

কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদের মেয়াদ শেষ হয়েছে৷ সম্ভবত ঈদের পরই এই রাজ্যে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণার সম্ভবনা রয়েছে৷ বিধানভবন সূত্রের খবর, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর কাঁধে বাংলার দায়িত্ব না থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে৷ একই সঙ্গে নতুন সভাপতি হিসেবে শেষ মুহূর্তে তিনটি নাম উঠে এসেছে৷ এই তিনজন হলেন, প্রদীপ ভট্টাচার্য, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং সোমেন মিত্র৷ সেক্ষেত্রে সোমেন মিত্রের ফের সভাপতি হওয়ার জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিধানভবনের কর্তারা৷

Advertisement

এমনিতেই হাইকমান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো সোমেন মিত্রের। সম্প্রতি এআইসিসি-র মিটিংয়ে রাজ্যের একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলেন সোমেন মিত্র। সেখানে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। তারপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাসখানেক ভর্তি ছিলেন দিল্লি এইমসে। জানা গিয়েছে, সেই সময় সোনিয়া গান্ধী নিজে সোমেন মিত্রকে ফোন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়েছেন। এমনকি তাঁকে দ্রুত সুস্থ হয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করার কথাও তিনি বলেন৷

এখন অনেকটাই সুস্থ সোমেন মিত্র৷ গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি বিধানভবনের ছ’তলায় বসছেন। ওই দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কংগ্রেস কর্মীরা এসেছিলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। সভাপতি পদে নিজের নাম নিয়ে জল্পনা শুনে সোমবারই সোমেন মিত্র হেসে বলেছিলেন, “আমি তো এব্যাপারে কিছু শুনিনি৷ তাই বলতে পারব না৷ তবে সাড়ে চার বছর হয়ে গিয়েছে৷ নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা হবে এটা আশা করা যায়৷ কিন্তু যিনি আছেন তিনিই থাকবেন নাকি অন্য কেউ হবে সে কথা আমি কী করে বলব?” একই প্রশ্নের উত্তরে মঙ্গলবারও নিজেকে খুব একটা ভাঙেননি৷ শুধু বললেন, যখন অসুস্থ ছিলাম তখন সোনিয়াজি ফোন করেছিলেন৷ কেমন আছি জানতে চেয়েছিলেন৷ যদি সভাপতির প্রস্তাব আসে তাহলে কী রাজি হবেন? এককথায় তাঁর উত্তর, ‘প্রস্তাব এলে ভেবে দেখব’৷

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সোমেন মিত্র প্রদেশের দায়িত্ব নিলে রাজ্য কংগ্রেসের হাল ফিরতে পারে। বিশেষ করে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজে সোমেন মিত্রের আলাদা একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। এছাড়া তাঁর সারা রাজ্যে জনসংযোগ রয়েছে৷ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা কংগ্রেসকে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ করতে পারে৷ অনেকে মনে করছে এব্যাপারে রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য ও প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের থেকে তিনি অনেকটাই এগিয়ে।

বাম আমলে ১৯৯৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এ রাজ্যে ৮৬টি আসন পেয়েছিল। সেই সময় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন সোমেন মিত্র। তারপর থেকে কংগ্রেসে ক্রমশ ভাটার টান৷ শেষ পর্যন্ত কার হাত ধরে দলে জোয়ার আসবে এখন সেটাই ভাবছে প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা৷

----
--