ব্যাংককে বিষধর ! পুজোয় গেলে ঘরে বাইরে ফোঁসফোঁস শুনতে পাবেনই

ব্যাংকক: এবার পুজোয় আপনার কি প্ল্যান? অষ্টমীর অঞ্জলি,নবমীর ভোগ,পাঞ্জাবি-শাড়ি নাকি সিঙ্গাপুর,পাটায়া,ব্যাংকক? চারদিনের অন্তরঙ্গ অবসর। কিন্তু আপনার ডেস্টিনেশন যদি ব্যাংকক হয়, তাহলেই সাবধান! পর্দার পেছনে কে ওখানে? উঁকি মারছে বিষধর।

আর এই আতঙ্ক শুধু পর্দার পেছনে বা দরজার কোনায় নয়,জুতোটাও ভালো করে দেখে পরুন, নাহলে বাকি ছুটিটা কোথায় কাটাবেন তা বলা মুশকিল! অবশ্য যদি ব্যাংককে বসে আমাজনের স্বাদ নিতে চান তাহলে সেটা আপনার ব্যাপার।

কারণটা ভয়াবহ৷ ব্যাংককে শুরু হয়েছে সাপের হামলা৷ ঘরে সাপ, বাইরে সাপ, বাজারে সাপ তেড়ে আসছে ফোঁস করে৷ এই কারণে, থাই দমকল বিভাগের ঘুম উড়ছে৷ আগুন লাগেনি কিন্তু সাপ ধরতে এক্কেবারে নাজেহাল তারা। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০০০-৩০০০ ফোন আসছে দফতরে শুধু সাপ ধরতে যাওয়ার জন্য।

- Advertisement -

উত্তর ব্যাংককের একটি দমকল বিভাগ গত জুন মাস থেকে এমন একটাও ফোন পায়নি যে যেখানে তাদের আগুন নেভাতে যেতে হয়েছে৷ উল্টে ফোন করে বলা হয়েছে-জলদি আসুন সাপ ধরে নিয়ে যান৷

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে এমনই খবর৷ এক দমকলকর্মী সুরাফোং সুয়েপচাই বলছেন,’প্রতি সপ্তাহে আমাদের প্রচুর সাপ ধরতে হয় এদিকে আগুন নেভানোর কোনো কাজ নেই’। আর এই সবুজে ঘেরা ব্যাংককে তখন যদি হয় বর্ষাকাল তাহলে তো হয়েই গেল আর রক্ষে নেই। তবে সেখানে সাপ নতুন কোনো বিষয় নয়, পার্ক, জলের ক্যানেল, স্কুল যেদিকে তাকাবেন সেখানেই সাপ।

আপনার বাড়িতে ইঁদুর নেই তো তাহলে কিন্তু বাড়িতেও হানা দেবে বিষধর। প্রায় ৩৫ ধরণের সাপ আপনি দেখতে পাবেন ব্যাংককের আনাচে-কানাচে। মূলত বিষধরদের বাসস্থান ব্যাংকক স্নেক ফার্মে আর বিষহীনদের জায়গা স্থানীয় পার্কে। ঘটনা এতটাই ভয়াবহ যে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ২০১৬ সালের রিপোর্ট বলছে, প্রায় ১,৭০০ জন মানুষ সাপের ছোবল খেয়েছেন৷

তবে যদি সব সাপ মেরে ফেলা হয় ভাববেন না তাতে খুব একটা লাভ হবে, ইঁদুরের সংখ্যা বাড়বে আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে রোগের পরিমাণ। প্রকৃতির ভারসাম্য রাখতে সাপ থাকা জরুরি৷ কিন্তু বিষধরদের সঙ্গে ঘরে বাইরে দেখা ! আপনি কি ভাবছেন ডেস্টিনেশন বদলাবেন নাকি?

Advertisement ---
---
-----