কলকাতা: শায়িত বাবার শেষ যাত্রায় বিমান-সূর্যকে বরদাস্ত নয়৷ সাফ জানিয়ে দিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র ছেলে প্রতাপ চট্টোপাধ্যায়৷ রাজা বসন্ত রায় রোডের বাড়িতে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সীতারাম ইয়েচুরি৷ তাঁকেই মনের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রতাপ৷ বললেন,‘বাবাকে সারাজীবন ওরা শুষে খেয়েছে, এখন ন্যাকামি দেখাতে এসছে, ওদের বরদাস্ত করা হবে না৷ ’

বেশ চিৎকার করেই বক্তব্য রাখেন প্রতাপ৷ পাশে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের শায়িত দেহ ফুলে ঢাকা৷ ক্ষোভ-দুঃখে ভরা গলায় প্রতাপ বলতে শুরু করেন, ‘ওদের বের করে দিতে বলেছি, পুলিশকে বলেছি কেউ যেন না ঢুকতে পারে, ৩০০ মিটারের মধ্যে ওদের যেন না দেখতে পাই৷’সীতারাম ইয়েচুরির সামনেই ক্ষোভে ফাটলেন প্রতাপ৷ বললেন, ‘সারাজীবন বাবাকে এদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে’৷

Advertisement

অবশ্য, প্রতাপের এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন৷ সোমনাথের মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে দায় এড়িয়েছে পলিটব্যুরো৷ সেই পলিটব্যুরোর সীতারাম ইয়েচুরিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রতাপ, অথচ বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রের উপর ক্ষোভের বান, ঠিক কী কারণে? পরিবার জানাচ্ছেন, মৃত্যুকালেও সোমনাথের সঙ্গে দলের দূরত্ব বজায় ছিল৷ কিন্তু, দলীয় সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে পৃথক রেখেছেন তাঁরা৷ আর সেই কারণে ব্যক্তিগত ভাবে সীতারাম ইয়েচুরিকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত৷

পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে দেখে অবশেষে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন সুজন চক্রবর্তী৷ তাঁরই মধ্যস্থতায় সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানান সূর্যকান্ত মিশ্র ও বিমান বসু৷ প্রতাপ চট্টোপাধ্যায়ের এই ব্যবহার নিয়ে ঠান্ডা প্রতিক্রিয়া দিলেন বিমান বসু৷ জানালেন, বাবাকে হারিয়ে প্রতাপ শোকার্ত৷ মন থেকে হয়ত বলেননি৷ পাশপাশি, বক্তব্যের শেষে বিমান জানান, প্রতাপ চট্টোপাধ্যায়কে বাবা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ও পছন্দ করতেন না৷

----
--