প্রয়াত লোকসভার প্রথম বাঙালি স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চলে গেলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সকালের দিকে তিনি অন্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। গত দেড় মাস ধরে একাধিকবার হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল তাঁকে। বার্ধক্যজনিত কারণেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।

আরও জানানো হয়েছিল যে ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন সিপিএমের প্রাক্তন এই সাংসদ৷ গত এক সপ্তাহেরও ধরে হাসপাতালে ভরতি তিনি৷ তবে শুক্রবার বিকেল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর৷ গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড৷ ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন তাঁর একবার হার্ট অ্যাটাক হয়।

বিশিষ্ট সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ভারতের লোকসভার প্রথম বাঙালি স্পিকার হয়েছিলেন। ২০০৪ সালের প্রথম ইউপিএ জামানায় তাঁকে ওই পদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরে বীরভূমের বোলপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন।

১৯৬৮ সালে সিপিএমে যোগ দেন এই প্রাক্তন সাংসদ৷ ২০০৮ সালে পরমাণু চুক্তির জন্য কেন্দ্রের সরকারের ওপর থেকে সংমর্থন তুলে নেয় বামেরা৷ সে সময় তাঁর দল সিপিএম একাধিক বার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পদ ছাড়তে বলে। কিন্তু দলের কথা শুনতে রাজী হননি লোকসভার এই প্রাক্তন অধ্যক্ষ৷ আর তাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত।

তিনি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন দীর্ঘদিন৷ ১৯৮৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত লোকসভায় দলের নেতা ছিলেন৷ প্রথম ইউপিএ সরকার তৈরি হওয়ার সময় বামেরা কংগ্রেসকে বাইরে থেকে সমর্থন দেয়। তখনই অধ্যক্ষ হিসেবে উঠে আসে দীর্ঘদিনের সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাম।

২০০৪ সালের পর তিনি আর কোনও নির্বাচনে লড়াই করেননি। ২০১২ সালে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে প্রথমবার পরাস্ত করে সাংসদ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।