মাদক কারবারের টাকা শোধ করতে বাবাকে বন্ধক ছেলের

স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: মাদক কারবারের টাকার জোগান দিতে পারছে না ছেলে৷ সেই টাকা মেটাতে বাবাকে মাদক কারবারিদের কাছে রেখে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে৷ ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার গণেশপুরে৷ বাবার নাম মতিউর রহমান৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মতিউর রহমানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাঁর পরিবার ৩১ অগস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করে। তার দু’দিন পর মতিউরের স্ত্রী সাদেনুর বিবি তাঁর স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ফের থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব

- Advertisement -

সেই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন স্বামীর মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগ পেয়ে লালগোলা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে অপহৃতের পরিবার জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে৷ তাঁর কাছে মতিউরকে খুঁজে দেওয়ার আবেদন জানান পরিবারের সদস্যরা৷ পুলিশের দাবি, ততদিনে লালগোলা থানার তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এই অপহরণের সঙ্গে মতিউরের পরিবারের লোকজন যুক্ত আছে।

এরপর পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে ২২ অগস্ট মতিউরের ছেলে সেঞ্জারুল মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা মহসিন শেখের কাছ থেকে বেশ কিছু হেরোইন কেনে। সেই মাদক বাবদ মহসিন সেঞ্জারুলের কাছে সাড়ে চার লক্ষ টাকা পেত। বকেয়া টাকা নিয়ে দুই মাদক কারবারির মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়।

আরও পড়ুন: দাদরি লিঞ্চিং কিংবা অ্যাওয়ার্ড ওয়াপসি সত্ত্বেও আমরাই জিতব: অমিত শাহ

মহসিন জানিয়ে দেয় ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ না করা হলে সেঞ্জারুলকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। প্রাণে বাঁচতে বাবা মতিউরকে সেঞ্জারুল টোপ দেয় মসজিদ বানাতে সরকার টাকা দিচ্ছে। ওই টাকা পেতে হলে বৈষ্ণবনগরে গিয়ে ফর্ম জমা করতে হবে। ছেলের কথা মতো পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে মতিউর মসজিদের টাকা সংগ্রহ করতে বৈষ্ণবনগরে পৌঁছান।

কৌশলে বাবাকে মাদক কারবারিদের হাতে তুলে দেয় ছেলে৷ অভিযোগ, শুধু তাই নয় মাদক কারবারিদের শিখিয়ে দেয় তারা যেন ফোন করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের দাবি করে৷ লালগোলা থানার পুলিশ বিষয়টি টের পেয়ে চারদিন ধরে বৈষ্ণবনগরে ফাঁদ পাতে। গোটা চক্রকে প্রায় হাতের নাগালেই পেয়ে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেঞ্জারুল, মহসিন পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মতিউরকে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় কোচের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভিনেশের

এই বিষয়ে মতিউরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ তিনি বলেন, ‘‘কোনও ছেলে যে তার বাবাকে এইভাবে জল্লাদের হাতে তুলে দিতে পারে তা আমার জানা নেই। সীমান্তে মাদক কারবার বন্ধ না হলে অনেক বাবাকেই আমার মতো কিডন্যাপ হতে হবে।’’

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে খুঁজে বের করা হবেই। সোমবার মতিউরের জবানবন্দি নথিভুক্ত করতে পুলিশ তাঁকে লালবাগ আদালতে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: সিংগিমারি নদী গর্ভে কোচবিহারের পঞ্চধ্বজি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Advertisement ---
---
-----