রাজ্য জোড়া দাবিতে গলা মিলিয়ে বাবার ফাঁসি চাইল ছেলে

মানব গুহ, কলকাতা: ফাঁসি চাই, ফাঁসি৷ চরমতম শাস্তি৷ অন্য কোন শাস্তি যথেষ্ট নয়৷ নৃশংস বিকৃতরুচির ব্যক্তিটিকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝোলাতে না পারলে শান্তি নেই সাধারণ মানুষের৷ ‘নরপশু’ সনাতনের ফাঁসি চেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় মিছিল হল পুরুলিয়ায়৷ ফাঁসিই একমাত্র শাস্তি, সোস্যাল মিডিয়ায় একসুরে গোটা রাজ্য৷ এমনকি কন্যা শিশু নির্যাতন মামলায় রাজ্যবাসির সঙ্গে সহমত হয়ে বাবার ফাঁসি চাইলেন সনাতনের ছেলেও৷

হেতাল পারেখ হত্যা মামলায় ধনঞ্জয়ের ফাঁসি হয়ে গেছে অনেক দিন হলো৷ আবার কাউকে ফাঁসি দেবার দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে৷ শুক্রবার ভোরেই এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় পুরুলিয়ার যৌন নির্যাতিতা শিশুকন্যার৷ তার জেরেই অভিযুক্ত সনাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উপচে পরছে৷ এদিন সন্ধ্যায় দোষী সনাতনের ফাঁসি চেয়ে মিছিল হয় পুরুলিয়া শহরে৷ ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে শুরু মোমবাতি মিছিলে পা মেলান আট থেকে আশি৷ কচিকাঁচা থেকে শুরু করে বয়স্ক বুদ্ধিজীবিরাও হাতে মোমবাতি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন৷ মিছিল থেকেই সনাতনকে ফাঁসির সাজা শুনিয়ে দেয় আমজনতা৷ পুরুলিয়ার মোমবাতি মিছিলকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্য জুড়ে সোস্যাল মিডিয়াতেও ঝড় উঠেছে৷ সেখানেও সনাতনকে ফাঁসিতে ঝোলানরই দাবী৷

- Advertisement -

শরীরের খিদে মেটাতে সন্তানকেও ব্যবহার করল এক নৃশংস নোংরা মা

শুক্রবার ভোরে নির্যাতিতা শিশুটির মৃত্যুর পরেই অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়৷ আগেই The Protection of Children from Sexual Offenses Act বা পকসো আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু করে পুরুলিয়ার মফস্বল থানার পুলিশ৷ এসএসকেএম হাসপাতালে নির্যাতিতা শিশুটির মৃত্যুর পর অভিযুক্ত সনাতনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির দফা ৩০২ ধারায় হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ বিরল থেকে বিরলতম ঘটনা প্রমাণ হলে এই ধারায় সর্ব্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি৷

যেভাবে একটি সাড়ে তিন বছরের শিশুকে অত্যাচার করা হয়েছে তা বিরল থেকে বিরলতম বলেই মনে করছে রাজ্যবাসি৷ যেভাবে শিশুটির শরীরের অনেক হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে তা জীবনে কোনদিন শোনা যায় নি বলেই অভিমত সবার৷ তার চেয়েও নৃশংস ঘটনা হল যে ভাবে ছোট্ট শিশুটির শরীরে এক এক করে ৭টি সূচ ভরে দেওয়া হয়েছে তা কল্পনাও করতে পারেন না কেউ৷ দিনের পর দিন শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে৷ এই ঘটনাকে বিরল থেকে বিরলতম মনে করে নৃশংস সনাতনের বাঁচার কোন অধিকার নেই বলেই মত প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন সনাতন ঠাকুরের ছেলেও৷ বিকৃতরুচি সনাতনের ছেলে লক্ষণ ঠাকুরও আজ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাবা যা করেছে, তাতে বাবার ফাঁসিই হওয়া উচিত৷

এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু পুরুলিয়ার সূচবিদ্ধ শিশুর

পুরুলিয়ার আজকের মিছিলে এমন অনেক মানুষ ছিলেন যাঁরা ফাঁসিতে বিশ্বাস করেন না৷ যাঁরা মনে করেন কারোরই ফাঁসির সাজা হওয়া উচিত নয়৷ তাঁরাও এই ঘটনায় দোষীর ফাঁসির দাবি তুলেছেন৷ পুরুলিয়ার শিশু কন্যার ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে৷ আর শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু যেন আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে৷ শিশুকন্যার এই পরিণতির জন্য যে দায়ী সেই ‘অভিযুক্ত’ সনাতনকে চরম শাস্তির কথা শুনিয়েই দিয়েছে আমজনতা৷

পুরুলিয়ার মফস্বল থানার পুলিশ কবে শিশু নির্যাতন ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সনাতনকে গ্রেফতার করতে পারে সেটাই এখন দেখার৷ এই মামলায় সময়মতো দায়িত্বপালন না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে এমনিতেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ৷ পুরুলিয়ার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছ থেকে সঠিক সময়ে খবর পাওয়ার পরও, কেউ কোন অভিযোগ করে নি এই অজুহাতে ব্যবস্থা নিতে অনেক দেরি করে পুলিশ৷ ততদিনে বাড়ি তালা বন্ধ করে বেপাত্তা সনাতন ঠাকুর৷ খুব তাড়াতাড়ি সনাতনকে গ্রেফতার না করতে পারলে পুলিশের বিরুদ্ধেও যে মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পরবে তা বলাই যায়৷

 

Advertisement ---
---
-----