একুশের ভিড়ে লক্ষীলাভ সোনাগাছির

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ; কলকাতা: একুশের শহিদ দিবসে ভিড় বাড়ে সোনাগাছিতেও। ব্যবসা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। কলকাতার নিষিদ্ধপল্লী সূত্রেই মিলছে এই তথ্য। দিদির ভাষণেও সমর্থকদের যেমন উৎসাহ রয়েছে সভা ভাঙার পর সেই উৎসাহই গিয়ে পড়ে মহানগরের নিষিদ্ধপল্লীতে।

কলকাতায় যেকোনও বড় জনসমাগম হলেই সোনাগাছির ওই বিশেষ দিনে ব্যবসায় উন্নতি হয় বলেই জানাচ্ছে দুর্বার মহিলা সমিতি। তবে এই জনসমাগম ব্যবসা বৃদ্ধি আজকের নতুন কোনও ঘটনা নয়। শহরের নিসিদ্ধপল্লী শুরুর দিনের পাতা ঘাঁটলেও মিলবে একইরকম ছবি। ২০০ বছর আগের ইতিহাস থেকে জানা যায় ; এই শহরে ইংরেজরা যখন নিজেদের পসার জমিয়ে বসে তখন তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল অনেক সৈন্য সামন্ত। অনেকেই মাসের পর মাস বাড়ি যেতে পারতেন না।

- Advertisement -

নারী সঙ্গ পেতে তারা হাজির হতেন উত্তর কলকাতার এই যৌন পল্লীতেই। সেই সময় বিধবা গৃহ বধূদের জোর করে এখানে নিয়ে এসে চলত নির্যাতন। ২০০ বছর পেরিয়েও সেই ছবি বদলায়নি। রাজনৈতিক মিটিং মিছিলের পরের ভিড়টা আছড়ে পড়ে এখানে। ব্যবসা বাড়লেও মানবিক দিক থেকে যা সুখকর নয়। সোনাগাছি সূত্রে জানা যাচ্ছে ; শহরে যেকোনোও মিটিং মিছিল হলেই যৌনকর্মীদের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

স্বাভাবিকভাবেই ২৫তম একুশে জুলাইয়ের পরে সভার ভিড় বেশ কিছুটা গিয়ে পড়বে এখানেও। দুর্বার মহিলা সমিতির কো-অর্ডিনেটর মহাশ্বেতা বলেন ; “আজকে বেশ কিছুটা ভিড় বাড়বে এখানে। শুধু ভিড় বৃদ্ধি নয় ব্যবসায় বাড়ে অন্যদিনের থেকে।”একইসঙ্গে তিনি বলেন “শুধু একুশে জুলাই বলে নয় যেকোনও রাজনৈতিক মানেই সোনাগাছিতে ব্যবসা ভালো হয়।”

দুর্বারের অন্যতম সদস্য কাজল বোস বলেন ; “এক একটি মেয়ের অন্তত পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা বেশি ব্যবসা হয়।” একইসঙ্গে তিনি বলেন ; “এখানে কোনও মেয়ের দর ৫০০ টাকা ; কারোর ১০০০ টাকা। মেয়ে অনুযায়ী দর হয়। তবে এই মিটিং মিছিল হলে ব্যবসা ভালো হয় বলে অনেকে দাম বাড়িয়ে দেয়।”

তবে পুলিশের সমস্যাও রয়েছে। অনেক কাস্টমারকে পুলিশ হানা দিয়ে আটক করে নিয়ে যায় বলে জানাচ্ছেন দুর্বার মহিলা সমিতির সদস্য।

সব সমস্যা সরিয়ে একুশের পঁচিশেও ব্যবসা ভালোই হবে বলে আশা যৌনপল্লীর

Advertisement ---
---
-----