ঋদ্ধির ভাবনায় বাংলার প্রতিভাবান নারীদের স্মৃতিচারণ

কলকাতা: একটা সময় ছিল যখন নারীদের অভিনয় বা সঙ্গীত সাধনার স্বাধীনতা ছিল না৷ সমাজের কুসংস্কার তাঁদের প্রতিভাকে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করত৷ তখন পুরুষরাই নারীর সাজে অভিনয় করতেন৷ এছাড়াও নিষিদ্ধ পল্লির মেয়েদের মনোরঞ্জনের রসদ বলে গণ্য করা হত৷ সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের জন্য গান, বাজনা, অভিনয় প্রযোজ্য ছিল না৷ কিন্তু এমনও কিছু নারী জন্ম নিয়েছিলেন যারা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছিলেন৷ সঙ্গীত ও অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন৷ সঙ্গীত হোক বা অভিনয়, কঠোর সাধনা না করলে প্রকৃত শিল্পী হওয়া যায়না৷ সমাজে সেই নারী পুরুষের বিভেদ সরিয়ে নটি বিনোদিনী, গওহরজান, আঙুর বালা, ইন্দুবালা, রানীবালা, কঙ্কাবতী দেবী, কানন দেবীর মতো কিছু দুঃসাহসী নারী উঠে এসেছিলেন যারা প্রতিভা দিয়ে পরিচিতি তৈরি করেছিলেন৷কিন্তু বর্তমান সময় অনেকেই তাঁদের সঙ্গে পরিচিত নন৷সেই সব অতুল্য প্রতিভাদের স্মৃতিচারণে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ আয়োজিত হল অনুষ্ঠান ‘আলোয় ফেরা'৷ কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, মধুমিতা বসু, দেবজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা কুমার প্রমুখ৷ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিস শেফালি৷ যিনি ক্যাবারে ডান্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন৷ তাঁর লেখা 'সন্ধ্যা রাতের শেফালি' নারীদের অনুপ্রেরণা জাগায়৷  অনুষ্ঠানে রবি ঠাকুরের গানে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়া অ্যালবাম প্রকাশিত হয়৷

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের গানে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথায় উঠে এলো কানন দেবী, নটি বিনোদনী, গওহর জানের গান ও জীবন যাত্রা নানা মহুর্ত৷ ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এলো সেই সব নারী যারা জীবনের অধিকাংশ সময়টা বরাদ্দ করেছিলেন মানুষের মনোরঞ্জনে৷

প্রতিবেদক – রাকেশ নস্কর